মুক্তিযুদ্ধে শহিদের সংখ্যা নিয়ে কটূক্তি: খালেদা জিয়ার জামিন নাকচ

মুক্তিযুদ্ধে শহিদের সংখ্যা নিয়ে কটূক্তি করার মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন নাকচ করেছেন দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূর এ আদেশ দেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী হান্নান ভূইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, আজ বেলা সাড়ে ১২টায় খালেদা জিয়ার জামিন সংক্রান্ত শুনানি হয়। শুনানি শেষে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় বিচারক খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন।

২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি শহিদের সংখ্যা নিয়ে কটূক্তি করে বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিক খালেদা জিয়া ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। সে তদন্ত প্রতিবেদন আসার পরে খালেদা জিয়া ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেন, ‘আজকে বলা হয় এত লক্ষ শহীদ হয়েছে, এটা নিয়েও অনেক বিতর্ক আছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘তিনি (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান) বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে মুক্তিযুদ্ধ হতো না।’

এছাড়া গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও একই বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বুদ্ধিজীবীরা নির্বোধের মতো মারা গেছেন। একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা পাকিস্তানের বেতন-ভাতা খেয়েছেন, তারা নির্বোধের মতো মারা গেলেন। আর আমাদের মতো নির্বোধরা শহীদ বুদ্ধিজীবী হিসেবে তাদের কবরে ফুল দেই। আবার না গেলে পাপ হয়। তাঁরা যদি বুদ্ধিমান হন, তাহলে ১৪ তারিখ পর্যন্ত নিজের ঘরে থাকলেন কীভাবে।’