যশোরে দেড় বছরে ১০১৭ দুর্ঘটনায় নিহত ১০৯ আহত ১৯৮৪

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় গত দেড় বছরে কয়েক হাজার সড়ক ও নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব সড়ক দুর্ঘটনার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। ফায়ার সার্ভিসের দেয়া তথ্যমতে বৃহত্তর যশোর জেলায় গত দেড় বছরে এক হাজার ১৭টি দুর্ঘটনায় ১০৯ জন পথচারী নিহত হয়েছে। তবে প্রকৃত পক্ষে হতাহতের সংখ্যা আরো কয়েকগুন বেশি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এসব দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে এক হাজার ৯৮৪ জন। এর মধ্যে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৪ মারা গেছে। বাকি সবই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। এর মধ্যে যশোরে ৪৩২টি দুর্ঘটনায় মারা যায় ৩৬ জন, গুরুতর আহত হন ৮৯২ জন।

অন্যান্য দুর্ঘটনা ঘটে ২১টি, নিহত হয় চার জন, আহত হয় ১৬ জন। একই সময়ের মধ্যে ঝিনাইদহে ৩৮০টি দুর্ঘটনায় নিহত হয় ২২ জন, আর আহত হয় ৭৩৯ জন। অন্যান্য দুর্ঘটনা ঘটে একটি। একই সময়ের মধ্যে মাগুরায় ১৩১টি দুর্ঘটনায় নিহত হয় ২৫ জন, আহত ১৯৯ জন। একই সময়ের মধ্যে নড়াইলে ৩৪টি দুর্ঘটনায় মারা যান সাত জন, আহত হয় ১৩৪ জন। অন্যান্য দুর্ঘটনা ঘটে চারটি, নিহত হয় এক জন।

যশোর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা পরিমল কুণ্ডু সরকার জানান, দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের কাছে যে ফোন-কলগুলো আসে তার ভিত্তিতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সাথে সাথে দুর্ঘটনা স্থানে হাজির হয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। যেগুলো ঘটনাস্থলে মারা যায় ও আহত হয় তার ভিত্তিতে তারা এ তথ্যগুলো সংগ্রহ করেন। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় যে মৃত্যু হয় সেগুলো তাদের সংগ্রহে থাকে না।

তাছাড়া ফায়ার সার্ভিস ছাড়া অনেকে অন্য কোনো মাধ্যমে বা নিজস্ব পরিবহনের মাধ্যমে সরকারি ও বেসকারি হাসপাতালে নিয়ে থাকে। সেসব ক্ষেত্রেও অনেকের মৃত্যু হয়। আবার অনেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকেন। তাই সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করা বেশ দুঃসাধ্য বলে তিনি জানান।

যশোর আঞ্চলিক বিআরটিএর সহকারী পরিচালক কাজী মোহাম্মদ মোরছালিনের কাছে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যশোর বিআরটির পক্ষ থেকে এক বছরে এক হাজার ৬০ জন পেশাদার গাড়ি চালককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া সড়কে দুর্ঘটনা কমাতে বিভিন্ন সময়ে সড়কে সড়কে গিয়ে রোড শো-করা হয়েছে। তবে সড়কের অবস্থার উন্নতি ও গাড়ি চালক,পথচারী সচেতন হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব বলে জানান এ কর্মকর্তা।