শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য আর নব্য নাৎসীবাদের বিরুদ্ধে ইভানকার টুইট

শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য ও নব্য নাৎসীবাদের কঠোর সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা ও হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা ইভানকা ট্রাম্প। ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ আর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নামের দুই ধারণাকে উপজীব্য করেই শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী নির্বাচনি প্রচারণা চালিয়েছিলেন তার বাবা ডোনাল্ড ট্রাম্প। নব্য নাৎসীতন্ত্রের ব্যাপক উত্থান হয়েছে তিনি ক্ষমতায় আসার পর। তবে ইভানকা তার টুইটার বার্তায় এর সমালোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের চারলোত্তেসভেলিতে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদীদের হামলায় প্রাণহানির বর্ষপূর্তিতে ওই টুইট করেন ‌ইভানকা।

মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানকে নির্বাচনি প্রচারণার অস্ত্র করেছিলেন ট্রাম্প। তার এই মহান আমেরিকা দিয়ে তিনি সেই কলম্বাসের আবিষ্কৃত আমেরিকাকে বুঝিয়ে থাকেন; যা শ্বেতাঙ্গ আাধিপত্যেরই নামান্তর। কালজয়ী ঐতিহাসিক হাওয়ার্ড জিন তার ‘পিপলস হিস্টরি অব আমেরিকা’য় লিখেছেন কিভাবে আদিবাসীদের ওপর হত্যা-নির্যাতন চালিয়ে, তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করে এই কথিত আমেরিকায় শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য কায়েম করা হয়েছিল আর তার নাম দেওয়া হয়েছিল আমেরিকা আবিষ্কার। সেই শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের রাজনীতির বিপরীতে বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী ও শ্রেণি-পেশার মানুষকে স্থাপন করেছেন ট্রাম্প। তাদের মধ্যকার বিভক্তিকে সামনে আনতে চেয়েছেন। মেক্সিকোর সীমান্ত নয় কেবল, মানুষের মনের মধ্যে থাকা বিভক্তির দেয়ালকে উসকে দিতে চেয়েছেন তিনি। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার অল্পকিছুদিনের মধ্যে গত বছর ভার্জিনিয়ার চারলোত্তেসভেলিতে সাদা আধিপত্যবাদীদের মিছিল থেকে চালানো হামলায় একজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় জরুরি অবস্থা জারি করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। রবিবার ডান-পন্থী একই ধরনের আরেকটি গ্রুপ হোয়াইট হাউসের বাইরে বিক্ষোভ দেখানোর কর্মসূচি রেখেছে। এসব প্রশ্ন বিবেচনায় নিয়েই ইভানকা একটি টুইটার পোস্ট দিয়েছেন।

টুইটারে ইভানকা লিখেছেন, এক বছর আগে চারলোত্তেসভেলিতে আমরা ঘৃণা, বর্ণবাদ, গোড়ামি ও সহিংসতার কুৎসিত প্রদর্শন প্রত্যক্ষ করেছিলাম। যদিও আমেরিকানরা এমন একটি দেশে বসবাস করে যেখানে স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা ও মতামতের ভিন্নতাকে সুরক্ষা দেওয়া হয়। এই মহান দেশে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য, বর্ণবাদ ও নয়া নাৎসীবাদের কোনও স্থান হবে না।

টুইটারে ইভাঙ্কা আরও লিখেছেন, পরস্পরকে ঘৃণা, বর্ণবাদ ও সহিংসতার মাধ্যমে টেনে নিচে নামানোর পরিবর্তে আমরা পরস্পরকে উপরে তুলে ধরে আমাদের সম্প্রদায়কে শক্তিশালী করতে পারি। আর প্রত্যেক আমেরিকানের পূর্ণ সম্ভাবনা বের করে আনার লড়াইতে সাহায্য করতে পারি।’