গোপালগঞ্জের মাছ বাজার নিয়ন্ত্রন করছে সিন্ডিকেট

গোপালগঞ্জ জেলা শহরের বড় বাজারের মাছ ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করছে সিন্ডিকেট। ফলে দেশীয় প্রজাতির মাছসহ বিভিন্ন ধরনের মাছের এখন আকাশ ছোঁয়া দাম হয়েছে। নদীনালা,খালবিল,হাওড়বাওড়ের দেশীয় প্রজাতির মাছ এখন সাধারন মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। সাধারন ক্রেতারা চাষের মাছের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় সেসব মাছের দামও উর্দ্ধমুখি। বাধ্য হয়ে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রীত মাছের বাজার থেকে ক্রেতারা উচ্চ মূল্যে মাছ কিনতে বাধ্য হচ্ছে।
গোপালগঞ্জ বড় বাজারের একজন মাছ ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন বেশ কয়েক বছর ধরেই মাছের দাম বেড়েছে। দেশীয় প্রজাতির রুই, কাতলা, কই, মাগুর,চিংড়ি, পাবদা, টেংরা, পুটি, বেলে, শোল, টাকি, খয়রা, রয়না,বাইন,সিংগি প্রভৃতি মাছের দাম বেড়েছে বহুগুন। বড় বাজারের মাছ ব্যবসা সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রিত বলে স্বীকার করে ঐ ব্যবসায়ী বলেছেন এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা দুরহ ব্যাপার। তবে কর্তৃপক্ষ সোচ্চার হলে সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখা সম্ভব।
রবিবার সকালে গোপালগঞ্জের দত্তডাঙ্গা গ্রাম থেকে অনন্ত রায় (২৬) নামে এক বিক্রেতা দেড়কুড়ি ( স্থানীয় বাজারে ৩৬ টি) বড় সাইজের দেশী কই মাছ নিয়ে এসেছে বড় বাজারে বিক্রির জন্য। সে ঐ পরিমান কই মাছের দাম হেকেছে ২৫০০ টাকা। এসময় ক্রেতারা সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন। কয়েকজন ক্রেতা ভীষন উষ্মা প্রকাশ করেন। তারা উচ্চ স্বরে বলে ওঠেন সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করছে বলেই মাছের দাম বেড়ে গেছে। দেড়কুড়ি বড় সাইজের দেশী কই মাছ কিছুদিন পূর্বেও ৫০০ টাকায় কেনা গেছে। এসময় ঐ বিক্রেতার পাশে দাড়িয়ে থাকা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি মো: দাউদ আলী বলেন দেড়কুড়ি কই মাছের এত বেশী দাম চাওয়া অনুচিত। অপর একজন ক্রেতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিক দেখে বিষয়টি নিয়ে লেখার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন পুটি মাছের দামও এখন ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
পরে মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে বেলে মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০০/৭০০ টাকা করে। সিংগি মাছ বিভিন্ন সাইজের ৭০০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। চিংড়ি মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত। চাষের পাংগাস বিভিন্ন সাইজের বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে। রুই,কাতলা প্রভৃতি মাছ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে। দেশী প্রজাতির মাগুর মাছ দু:ষ্প্রাপ্য হয়ে গেছে বলে মাছ বিক্রেতারা জানিয়েছেন। চাষের মাগুর বিক্রি এখন কমে গেছে। অপপ্রচারজনিত কারনে চাষের মাগুর কেউ ক্রয় করতে চায় না। বাজারে পাবদা,বাইনসহ বেশ কিছু দেশী প্রজাতির মাছ কম পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা গেছে।