নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট লুলা

আগামী অনুষ্ঠেয় ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাকিও লুলা ডি সিলভা। নিজের পরিবর্তে রানিংমেট ফার্নান্দো হাদ্দাদকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন তিনি। লুলা দুর্নীতির দায়ে বর্তমানে ১২ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় ব্রাজিলের শীর্ষ নির্বাচনি আদালত প্রেসিডেন্ট পদে তার মনোনয়ন বাতিল করার দুই সপ্তাহ পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানালেন লুলা। মঙ্গলবার দেশটির ওয়ার্কাস পার্টির নেতা গ্লিইসি হোফম্যান এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। 

ব্রাজিলের পুলিশ সদর দফতরের সামনে সমর্থকদের উদ্দেশে লুলার লেখা একটি চিঠি পড়ে শোনান গ্লিইসি হোফম্যান। চিঠিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট আগামী ৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় নির্বাচন থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি ফার্নান্দো হাদ্দাদকে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।

লুলা ২০০৩ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। গত ৫ মাস ধরে তার সমর্থকরা তার মুক্তির জন্য আন্দোলন করে আসছে। দীর্ঘ দিনের আইনি লড়াই শেষে গত ৩১ আগস্ট ব্রাজিলের শীর্ষ নির্বাচনি আদালত সুপিরিয়র ইলেক্টোরাল কোর্ট-টিএসই জানায়, লুলা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ‘অযোগ্য’। লুলার আইনজীবী ও ওয়ার্কার্স পার্টি ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলেও সুপ্রিম কোর্ট ওই সিদ্ধান্তে অটল থাকে।

সোমবার রাত পর্যন্ত ওয়ার্কার্স পার্টি লুলাকেই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে রাখার চেষ্টা করে যায়। কারণ কারাগারে থাকার পরও লুলা দেশটিতে ব্যাপক জনপ্রিয় নেতা। নির্বাচনি জরিপ সংস্থা ডাটাফোলহা’র হিসাব মতে, প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার তাকেই ভোট দিতে চায়। লুলার স্থলাভিষিক্ত নতুন প্রার্থী হাদ্দাদ লুলার সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। সাও পাওলোর সাবেক মেয়র হাদ্দাদকে শহরটির বাইরের মানুষ খুব কমই চেনে।

প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার রেজিস্ট্রেশন করার জন্য সময় বাড়ানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেছিলেন লুলার আইনজীবীরা। তারা আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর কথা বলেছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেওয়ার পর লুলার দল ওয়ার্কার্স পার্টি কৌশল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়।