পরিবেশ রক্ষায় সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ হচ্ছে

দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন দ্বীপ সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় সেখানে পর্যটকদের রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ।

তিনি বলেছেন, “সব পরিকল্পনা শেষ। কিছুদিনের মধ্যেই এটি কার্যকর করা হবে।”

রোববার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিবেশ দূষণে বাংলাদেশ অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বছরে এদেশে আর্থিক ক্ষতি হয় ৫২ হাজার কোটি টাকা। বিশ্বে যেসব মানুষ মারা যান, তার ১৬ শতাংশই মারা যান পরিবেশ দূষণের কারণে। যেখানে বাংলাদেশে এ হার প্রায় দুই গুণ। দেশটিতে পরিবেশ দূষণের কারণে মৃত্যুর হার ২৮ শতাংশ।সেন্টমার্টিন দ্বীপে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে দূষিত করা হচ্ছে পরিবেশ (ফাইল ফটো)আনিসুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ দূষণ আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়। বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর পাশে গেলে এটি আরও পরিষ্কার হয়। তারপরও আমরা পরিবেশ রক্ষার চেষ্টা করছি। পরিবেশ রক্ষায় সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ করা হবে। একইসঙ্গে দখলকৃত সব জমি উদ্ধারে কাজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে ৬০০ মামলা করা হয়েছে, যেগুলো চলমান।

বন ও পরিবেশমন্ত্রী বলেন, “পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে সামনের সংসদ অধিবেশনে নতুন পরিবেশ আইন উঠছে। তাছাড়া গ্রুপ অব কোম্পানিগুলো যেন নদী দূষণ করতে না পারে, এজন্য নজরদারি হচ্ছে। বুড়িগঙ্গাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি কারখানা সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছে।বক্তব্য রাখছেন মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। ছবি: বাংলানিউজঅনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাজশ্রী পারালকার বলেন, পরিবেশ দূষণের কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর ৫২ হাজার ১৬০ কোটি টাকার লোকসান হয়। যা জিডিপির ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। বাংলাদেশে বছরে যেসব মানুষ মারা যান, তার ২৮ শতাংশই পরিবেশ দূষণের কারণে। পরিবেশ দূষণে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের শহর অঞ্চলে ৮০ হাজার মানুষ পরিবেশ দূষণের কারণে মারা যান।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনজুরুল হান্নান খান, বিশ্বব্যাংকের প্রোগ্রাম লিডার সঞ্জয় শ্রীবাস্তব প্রমুখ।