রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা রয়েছে : ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেংকো।

মঙ্গলবার টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া তার সীমান্তের আশপাশের সেনা ঘাঁটিগুলোতে ট্যাংকের সংখ্যা প্রায় ৩ গুণ বাড়িয়েছে। রাশিয়ায় আটক নাবিক ও নৌ কর্মকর্তাদের দ্রুত ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

ইউক্রেনে সামরিক আইন জারিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মঙ্গলবার বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে মস্কো। ইউক্রেন ইস্যু নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।

অন্যদিকে ক্রিমিয়া নিয়ে ইউক্রেনকে সহযোগিতা করার জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলোর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ দেখতে চায় বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র বিভাগের মুখপাত্র হেদার নুয়ের্ট।

শুধু তাই নয়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এ ঘটনার পর পুতিনের সঙ্গে আসন্ন বৈঠক বাতিল করে দেয়ার কথা ভাবছেন তিনি।

ওয়াশিংটন পোস্টকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইউক্রেনীয় যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে রাশিয়ার গুলি ছোড়ার ঘটনার ওপর ‘পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের’ জন্য অপেক্ষা করছেন।

রোববার ক্রিমিয়া উপদ্বীপে ইউক্রেনের ৩টি যুদ্ধজাহাজে গুলি করে নিজেদের দখলে নেয় রাশিয়া। গোলাগুলিতে ২৩ ইউক্রেনীয় নাবিক আহত হন। এ ঘটনায় দুই দেশই একে অপরকে দায়ী করে।

রুশ সেনাদের দাবি, তাদের জলসীমায় ইউক্রেনের এই নৌ-যানগুলো প্রবেশ করলে তাদের ওপর গুলি চালায় রাশিয়ার নৌ-বাহিনী। পরে দু’টি যুদ্ধজাহাজ এবং একটি টাগবোট জব্দ করা হয়।

রুশ বাহিনী কার্শ প্রণালীতে অবস্থিত সেতুর নিচে একটি ট্যাংকার আড়াআড়িভাবে বসিয়ে পথ বন্ধ করে রেখেছিল। সেটা থেকেই ইউক্রেনীয় গানবোট ও টাগবোটের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল।

এই কার্শ প্রণালীই আজভ সাগরে যাওয়ার একমাত্র পথ। সমঝোতার ভিত্তিতে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়েই এটি ভাগাভাগি করে ব্যবহার করে।