ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৬ষ্ঠ উইকেট নিলেন নাঈম

Bangladesh cricketer Nayeem Hasan celebrates after the dismissal of the West Indies cricketer Kemar Roach during the second day of the first Test cricket match between Bangladesh and West Indies at the Zahur Ahmed Chowdhury Stadium in Chittagong on November 23, 2018. (Photo by MUNIR UZ ZAMAN / AFP) (Photo credit should read MUNIR UZ ZAMAN/AFP/Getty Images)

ঢাকা টেস্টের তৃতীয় ইনিংসে উইকেট থেকে দারুণ সহায়তা পাচ্ছেন স্পিনাররা। বল ভয়ানক টার্ন এবং স্কিড করছে। সেই সঙ্গে উঠা-নামা করছে। কখনও লাফিয়ে উঠছে, মাঝে মধ্যে নিচু হয়ে যাচ্ছে। এর পুরো ফায়দা লুটছেন বাংলাদেশ বোলাররা।

আধিপত্য বিস্তার করে বোলিং করছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম ও নাঈম হাসান। তাদের বল খেলতেই পারছেন না ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যানরা। বলির পাঁঠা হয়ে একে একে ফিরছেন সাজঘরে। সবশেষ নাঈমের শিকার হয়ে ফিরলেন শান ডাওরিচ। স্লিপে দারুণ ক্যাচে তাকে ফেরালেন সৌম্য সরকার।

শেষ খবর পর্যন্ত ৯৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসেও কাঁপছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।এর মাঝে ফিফটি তুলে নিয়েছেন শিমরন হেটমায়ার। তিনি ৫০ রান নিয়ে ব্যাট করছেন। নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে তার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন দেবেন্দ্র বিশু।

এখনও ৩০১ রানে পিছিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হাতে আছে মাত্র ৪ ব্যাটসম্যান। সবাই লোয়ারঅর্ডার। ফলে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের করা ৫০৮ রানের জবাবে ১১১ রানে অলআউট হয়ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ফলে ফলোঅনে পড়ে সফরকারীরা। ৩৯৭ রানে পিছিয়ে থেকে পরে ব্যাট করতে নেমেও শুরুটা শুভ হয়নি তাদের।

সূচনালগ্নেই ফিরে যান দুই টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও অতিথি শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন সাকিব আল হাসান। ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান তিনি। প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই ছোবল মারেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কাইরন পাওয়েলকে মুশফিকুর রহিমের স্ট্যাম্পিং করে ফেরান তিনি।

খানিক বাদে সুনিল আমব্রিসকে এলবিডব্লিউ করে প্রতিপক্ষদের চাপে ফেলেন তাইজুল ইসলাম। এর মধ্যে রোস্টন চেজকে মুমিনুল হকের ক্যাচে পরিণত করে বিপর্যয়ে ফেলেন তিনি।

সেই বিপর্যয়ের মধ্যে শিমরন হেটমায়ারকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন শাই হোপ। সফলও হচ্ছিলেন তারা। তবে বিষয়টি ভালোভাবে নিতে পারেননি মিরাজ। সাকিবের ক্যাচ বানিয়ে হোপকে (২৫) ফিরিয়ে তাদের প্রতিরোধ ভাঙেন তিনি। এতে হেটমায়ারের সঙ্গে তার ৫৬ রানের জুটি ভাঙে।

এর আগে ফলোঅনের শঙ্কা নিয়ে তৃতীয় দিন খেলতে নামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয় দিনের ৫ উইকেটে ৭৫ রান নিয়ে নতুন দিনে খেলা শুরু করে সফরকারীরা। শিমরন হেটমায়ার ৩২ ও শান ডাওরিচ ১৭ রান নিয়ে খেলতে নামেন। স্বাভাবিকভাবেই তাদের দিকে তাকিয়ে ছিল তারা।

তবে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি এ জুটি। শুরুতেই মেহেদী হাসান মিরাজের কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে ফেরেন হেটমায়ার। ফেরার আগে ৫৩ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩৯ রান করেন তিনি। সেই রেস না কাটতেই দেবেন্দ্র বিশুকে সাদমান ইসলামের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান মিরাজ। এ নিয়ে ৫ উইকেটের কোটা পূরণ করেন তিনি।

এতেই ক্ষ্যান্ত হননি মিরাজ। পরক্ষণেই লিটন দাসের তালুবন্দি করে দেবেন্দ্র বিশুকে ফেরান এ অফস্পিনার। সবাই নিয়মিত বিরতিতে যাওয়া-আসা করলেও একপ্রান্ত আঁকড়ে ছিলেন ডাওরিচ। অবশেষে তাকেও উপড়ে ফেলেন তিনি। নির্ভরযোগ্য এ ব্যাটসম্যানকে এলবিডব্লিউ ফাঁদে ফেলে ৫৮ রানে ৭ উইকেট শিকার করেন মিরাজ। এটি তার ক্যারিয়াসেরা বোলিং। আগেরটি ছিল ৭৭ রানে ৬ উইকেট, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২০১৬ সালে।

এ নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবারের মতো ৫ উইকেট এবং বাংলাদেশের চতুর্থ বোলার হিসেবে ইনিংসে সাত বা এর বেশি উইকেট পেলেন মিরাজ। দেশের হয়ে এ কীর্তি আছে তিনজনের-এনামুল হক জুনিয়র, সাকিব আল হাসান ও তাইজুল ইসলামের।

ক্যারিবীয় শিবিরে