অর্থনীতি

বেসরকারি খাতে ৬ লাখ টন চাল আমদানির অনুমোদন

বাণিজ্য সচিব তপন কান্তি ঘোষ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চালের চাহিদা ও বাজার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি খাদ্য মন্ত্রণালয় দেখছে। তারা চাল আমদানির যত চাহিদাপত্র দিচ্ছে সেগুলোর সবই ধাপে ধাপে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।

চালের বাজারের ঊর্ধমুখী প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের জন্যই সরকারকে চাল আমদানি করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

খাদ্য মন্ত্রণালয় রোববার ৭৩টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ৬ হাজার টন সেদ্ধ চাল এবং ১৬ হাজার টন আতপ চাল আমদানির অনুমোদন দেয়।

এর আগের দিন ৯২টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৩ লাখ ৫৮ হাজার টন সেদ্ধ চাল এবং ৩৩ হাজার টন আতপ চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাজা আব্দুল হান্নান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আগামী ২৫ অগাস্ট পর্যন্ত চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়ার চিন্তা করছে সরকার। কিন্তু ইতোমধ্যেই চাল আমদানি নিয়ে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ কমে এসেছে।

“এর আগে আমনের মৌসুমে বেসরকারিভাবে চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে ব্যবসায়ীরা বরাদ্দের সব চাল আমদানি করেননি।“

এবার দেশে পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও বাজার ঊর্ধমুখী হয়ে গিয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সরকারি মজুদ এখন প্রায় ১৭ লাখ টন। তাই আমদানির খবরে বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আমাদের ধারনা। আর বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসলে ব্যবসায়ীরাও আমদানি কমিয়ে দেবেন।“

গত বছরও সরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি বেসরকারী খাতে চাল আমদানির অনুমোদন দেয় সরকার। তবে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা অনুমোদন নিলেও শেষ পর্যন্ত সবাই সেই অনুযায়ী চাল আমদানি করেননি।

সরকারিভাবে গতবছর দেশে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান ও চাল সংগ্রহ না হলে মজুদ কমে যায়। এতে চালের বাজার চড়া হয়ে গেলে বেসরকারি খাতে চাল আমদানির সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে চাল আমদানির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য আগের মতই কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।

শর্তের মধ্যে রয়েছে-

>> বরাদ্দ আদেশ জারির ১৫ দিনের মধ্যে ঋণপত্র-এলসি খুলতে হবে। এবং এ সংক্রান্ত তথ্য বিল অব এন্ট্রিসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইমেইল করতে হবে।

>> বরাদ্দপ্রাপ্ত আমদানিকারকদের আগামী ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব চাল বাংলাদেশে বাজারজাত করতে হবে।

>> বরাদ্দের অতিরিক্ত আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) জারি করা যাবে না।

>> আমদানি করা চাল পুনঃপ্যাকেটজাত করা যাবে না।

>> নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এলসি খুলতে না পারলে বরাদ্দ আদেশ বাতিল হবে।

এদিকে চাল আমদানিতে সাময়িক সময়ের জন্য শুল্ক কমিয়েছে সরকার। গত ১২ অগাস্ট আমদানি শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে এনেছে এনবিআর, যা আগামী অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে। সব মিলিয়ে এখন মোট শুল্ক দিতে হবে ২৫ শতাংশ।

এনবিআরের সদস্য (শুল্ক নীতি) সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছিলেন, এতদিন বিদেশ থেকে চাল আমদানির ক্ষেত্রে মোট ৬২ দশমিক ৫০ শতাংশ বিভিন্ন ধরনের শুল্ক দিতে হত। এখন থেকে সব মিলিয়ে ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।

এরমধ্যে আমদানি শুল্ক হিসেবে দিতে হবে ১৫ শতাংশ, অগ্রিম কর হিসেবে ৫ শতাংশ এবং অগ্রিম আয়কর হিসেবে দিতে হবে আরও ৫ শতাংশ।

সরকারি সংস্থা টিসিবির হিসাবে সোমবার ঢাকার বাজারে সরু চালের দর ছিল প্রতিকেজি ৬০ থেকে ৬৮ টাকা, মাঝারি চাল প্রতিকেজি ৫০ টাকা থেকে ৫৬ টাকা ও মোটা চাল ৪৫ টাকা থেকে ৫০ টাকা।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button