বিনোদন

‘ইসলামের বদনাম করছেন নুসরাত’

কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও সাংসদ নুসরাত জাহান। সম্প্রতি হত্যার হুমকিও পেয়েছেন তিনি। দুর্গাপূজায় মহাঅষ্টমীতে স্বামীর সঙ্গে পূজামণ্ডপে গিয়ে অঞ্জলি দেয়া, একজন মুসলমান হয়ে পূজায় অংশ নেয়া সবকিছু মিলিয়ে এমন হুমকি পেয়েছেন তিনি।
এর আগে, রোববার (৬ অক্টোবর) অভিনেত্রী নুসরাত জাহান তার স্বামীর সঙ্গে মহাঅষ্টমীতে শাড়ি ও সিঁদুর পরে সুরুচি সংঘের পূজা মণ্ডপে গিয়ে পূজা দেন। ওই সময় তিনি চোখ বন্ধ রেখে হাতজোড় করে অঞ্জলির মন্ত্রপাঠ ও প্রার্থনা করেন। এরপর স্বামীর সঙ্গে ঢাক বাজান-নাচেনও। যা এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে আরো দেখা যায়, পূজায় অংশ নিয়ে সেখানে ঢাকের তালে নেচেছেনও নুসরাত। ব্যাস, এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভারতীয় গণমাধ্যমে দুই ধর্মের লোকদের মধ্যে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়।

মূলত এর পরিপ্রেক্ষিতে ভারতের ন্যাশনাল কংগ্রেসের আসাম রাজ্যের আইটি সেলের এক কর্মী নুসরাতকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। তবে সবাই যে তার সমালোচনা করেছেন তা নয়, অনেকেই কিন্তু নায়িকার প্রশংসাও করেছেন।

নুসরাতের পক্ষে মত দেয়া অনেকের দাবি, সালমান খান ও শাহরুখ খান যখন পূজায় অংশ নেন তখন কেউ কোনো প্রশ্ন তোলেন না? তবে নুসরাতেরটা ধর্মনিরপেক্ষতা ও সম্প্রীতির ওপর হুমকি মনে করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত দিচ্ছেন, এটা কিন্তু ঠিক না।

এদিকে, নায়িকার বিপক্ষে মত দেয়া ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দের একজন পণ্ডিত মুফতি আসাদ কাশমী বলেন, এটা নতুন কিছু নয়। তিনি হিন্দু দেবতাকে পূজা দিচ্ছেন, যদিও ইসলামের অনুসারীদের প্রতি নির্দেশ রয়েছে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারো উপাসনা না করার। তিনি যা করেছেন তা হারাম। নুসরাত তার ধর্মের বাইরে গিয়ে বিয়েও করেছেন। তার নাম ও ধর্ম পরিবর্তন করা উচিত। যিনি মুসলিম নাম রেখে ইসলামের অমর্যাদা করেন, এমন মানুষ (নুসরাত) ইসলামে প্রয়োজন নেই।

প্রসঙ্গত, জন্মসূত্রে নুসরাত হচ্ছেন একজন মুসলমান। তবে তার স্বামী হিন্দু হওয়ায় উভয় ধর্মের প্রতিই তিনি শ্রদ্ধাশীল হয়ে উঠছেন।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button