আন্তর্জাতিক

‘ভারতের মাটিতে চীনা গ্রাম নিয়ে চুপ কেন মোদি?’

ভারতের মাটিতে চীনা গ্রাম নিয়ে চুপ কেন মোদি? এমন প্রশ্ন তুলেছে দেশটির বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটির অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার এই ইস্যুতে ইচ্ছাকৃত তথ্য বিকৃতি করছে।
কংগ্রেসের অভিযোগ, অরুণাচল প্রদেশে চীনা অনুপ্রবেশের অভিযোগের বিষয়ে নীরবতা পালন করছে বিজেপি সরকার। রাজ্যটির একটি এলাকার দুটি স্যাটেলাইট ছবি দেখিয়ে দলের মুখপাত্র ড. অভিষেক মনুসিংভি দাবি করেন, ভারতীয় ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে ৬০টি স্থাপনা নির্মাণ করেছে বেইজিং। হিন্দুস্তান টাইমস এই ছবি দুটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। তবে ছবি প্রসঙ্গে মনু সিংভি এই বিষয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান নিয়ে দ্বন্দ্বের কথাও উল্লেখ করেন।
এই কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত বলেছেন, সব ঠিক আছে এবং সীমান্তের চীনা অংশে যাবতীয় নির্মাণের ঘটনা ঘটছে। কিন্তু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে অরিন্দম বাগচি ওই দিনই বলেছেন, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে চীন। এই ধরনের একটি ইস্যুতে আমরা কি পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি মন্ত্রণালয়ের মধ্যে এমন অকল্পনীয়-অমার্জনীয় মতভেদ সহ্য করতে পারি?’
এই বিষয়ে মোদির নীরবতার নিন্দা জানিয়ে কংগ্রেস নেতা বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীকে সৎ ও স্বচ্ছ হওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। অবিলম্বে জাতীয় নিরাপত্তার এই বিশাল সমস্যাটি সমাধান করার অনুরোধ জানাচ্ছি।’
এদিকে কংগ্রেসকে পাল্টা তোপ দেগে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র টম ভড়াক্কন বলেছেন, ‘এখন যখন কৃষকদের সমস্যা সমাধান করা হয়েছে, তখন কংগ্রেস চীনের আঞ্চলিক সম্প্রসারণ নিয়ে একটি অসত্য গল্প তৈরি করছে। পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছে, সেখানে কোনও অনুপ্রবেশ ঘটেনি।’
এ মাসের গোড়ার দিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের এক প্রতিবেদনে ভারতের অরুণাচল প্রদেশে চীনের গ্রাম তৈরির বিষয়টি উঠে আসে। এর আগে দিল্লির পক্ষ থেকেও একই ধরনের অভিযোগ করা হয়েছিল।
২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথম ওই অভিযোগ করে ভারত। আন্তর্জাতিক মঞ্চেও বিষয়টি নিয়ে সরব হয় দিল্লি। ভারত তখন দাবি করে, অরুণাচল সীমান্তের ম্যাকমোহন লাইন পেরিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে চীন গ্রাম তৈরি করেছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। যদিও এমন দাবি অস্বীকার করে বেইজিং। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button