লিড নিউজ

আশ্রয়ণ প্রকল্প-২

তৃতীয় ধাপের স্বপ্নের ঘরগুলো হবে আরো দীর্ঘস্থায়ী

গৃহহীন মানুষের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর আওতায় নির্মিত ঘরগুলো আরো মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইটের ভিত ও কলামের পরিবর্তে এবার ব্যবহার করা হবে আরসিসি ঢালাইয়ের গ্রেট বিম ও কলাম। ঘরের চালা মজবুত করতেও কাঠামো নির্মাণে পরিবর্তন আনা হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকার সাভার উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ ঘুরে দেখে এসব তথ্য জানা গেছে।

একটি মানুষও যেন গৃহহীন না থাকে—সে লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করছেন আশ্রয়ণ প্রকল্প-২। এ প্রকল্পের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে বেশ কিছু ঘরের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কোথাও দেয়াল ফেটে যাওয়া, ধস বা মাটি দেবে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। যেসব কারণে ত্রুটি হয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে তৃতীয় ধাপে সমাধান করেই নির্মাণ করা হচ্ছে বাড়ি। দ্বিতীয় ধাপের তুলনায় এতে ব্যয় বেড়েছে ৬৪ হাজার টাকা। আর প্রথম ধাপের তুলনায় ৮৮ হাজার টাকা। তৃতীয় ধাপে ঘরপ্রতি বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ৫৯ হাজার টাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শিমুলিয়া ইউনিয়নের গোহাইলবাড়ী গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর দ্বিতীয় ধাপের ঘর নির্মাণকাজ চলছে। রাজমিস্ত্রি নকুল কুমার জানান, বর্তমানে যে কাজ হচ্ছে, এটি আগের চেয়ে অনেক উন্নত। আগে সিমেন্টের পরিমাণ ছিল কম, এখন তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের কাজের অভিজ্ঞতার আলোকে তৃৃৃতীয় ধাপে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। দুর্যোগ সহনীয় মাত্রায় ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ঘরের ভিতে দেওয়া হয়েছে আরসিসি ঢালাই। দেয়ালের নিচে এবং ওপরের চারপাশে লিন্টার টেনে দেওয়া হয়েছে। বাইরে যে তিনটি পিলার আছে, সেগুলো আগে ইটের তৈরি ছিল। এবার আরসিসি ঢালাই দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এবার যে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে, তা অনেক বেশি মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। ’

প্রকল্প প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাকিউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তৃতীয় পর্যায়ের নির্মিত

ঘরগুলোয় তিনটি কলামের পরিবর্তে তিনটি আরসিসি পিলার সংযোজন করা হয়েছে। অবকাঠামো অধিকতর টেকসই করতে গ্রেট বিম সংযোজন করা হয়েছে। টানা নিংটোল সংযোজন করা হয়েছে। এতে ঘর আরো টেকসই হবে। চালের টিনের ফ্রেম অধিকতর টেকসই করতে অ্যাংকর রড যুক্ত করা হয়েছে। ওয়ালের নিচেও সিসি সংযোজন করা হয়েছে। ’

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে এক লাখ ১৭ হাজার ৩২৯টি ঘর দেওয়া  হয়েছে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের। এতে ২ শতক জমির মালিকানাসহ সেমিপাকা দুই রুমের ঘর করে দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে রান্নাঘর, টয়লেট, সুপেয় পানি, বিদ্যুৎ সংযোগ, আঙিনায় হাঁস-মুরগি পালন ও শাক-সবজি চাষের জায়গা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবিক উদ্যোগ আশ্রয়ণ প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ঘর পাবেন ৬৫ হাজার ৪৭৪ পরিবার। প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে ঈদুল ফিতরের পর আনুষ্ঠানিক এসব ঘর হস্তান্তর করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, ‘পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে দিতে আশ্রয়ণের বিষয়টিকে আমরা বলছি— অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে শেখ হাসিনা মডেল। চলতি অর্থবছরে এই কার্যক্রমের আওতায় আসবে এক লাখ ৮২ হাজার ৮০৩টি পরিবার। এতে তিন হাজার ৯৭১ কোটি ছয় লাখ ৮৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় ধাপের কাজ চলছে। এতে ৬৫ হাজার ৪৭৪ পরিবার পাবে নতুন ঘর।

তিনি বলেন, এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ ও একমাত্র প্রকল্প; যাতে একসঙ্গে এত পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন করা হয়েছে। ভিটামাটির পাশাপাশি হচ্ছে কর্মসংস্থান। সমাজের মূলস্রোতের সঙ্গে চলে আসছে পিছিয়ে পড়া বড় এক জনগোষ্ঠী।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button