লিড নিউজসারাদেশ

মাগুরায় ফসলি জমিতে ৫০ ইটভাটা

সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাগুরার চার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নদী ও তিন ফসলি জমি দখল করে একের পর এক গড়ে উঠেছে ইটভাটা। এতে করে একদিকে যেমন কৃষিজমির পরিমাণ কমছে, তেমনি জলবায়ুর ওপর পড়ছে বিরূপ প্রভাব। ঘটছে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণ। স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে ভাটার নিকটবর্তী এলাকার মানুষ।

প্রশাসনিক তথ্যমতে, মাগুরা সদর, মহম্মদপুর, শ্রীপুর ও শালিখা এ চার উপজেলায় ইটভাটার সংখ্যা ৭২টি। এগুলোর মধ্যে অন্তত ৫০টি গড়ে উঠেছে তিন ফসলি জমিতে। মাগুরা সদর উপজেলার জগদল, লস্করপুর মাঠে তিন ফসলি জমিতে প্রতিনিয়ত নতুন ইটভাটা গড়ে তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমির মালিকদের কাছ থেকে প্রভাবশালী একটি মহল জোর করে এসব জমি দখল করে ইটভাটা গড়ে তুলছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে।

অন্যদিকে মাগুরা সদর উপজেলার বাগবাড়িয়া, কছুন্দি, খর্দকছুন্দি গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছে, সেখানে মধুমতি নদী দখল করে একই সঙ্গে গড়ে উঠেছে ২৮টি ইটভাটা। একসময় শুষ্ক মৌসুমে এ নদীর চরে তারা ফসল ফলাতেন। এখন ইটভাটা হওয়ায় সেই চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, ইটভাটার কারণে এলাকার গাছপালা মরে যাচ্ছে, অন্যান্য ফসলি জমি উর্বরতা হারাচ্ছে। এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত শ্বাসকষ্টসহ নানা অসুখে ভুগছে। নদী থেকে মাটি কেটে ভাটায় নেওয়ায় ক্রমেই নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে আশপাশের এলাকা। একইভাবে ইটভাটার জ¦ালানির জোগান হতে গিয়ে উজাড় হচ্ছে স্থানীয় বনাঞ্চল।

জগদল ইউনিয়নের লস্করপুর গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম, বাচ্চু মিয়া, গোলজার শেখ, মোহাম্মদ শেখসহ অনেকে বলেন, ‘লস্করপুর মাঠে তাদের তিন ফসলি জমিতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা ফাতেমা ব্রিকস নামে ইটভাটা করার জন্য ইতিমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদে অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছে। তারা আমাদের জানিয়ে দিয়েছে “এখানে ইটভাটা করবে, সেজন্য তাদের কাছে জমি ইজারা দিতে হবে। চলতি ফসল উঠে গেলে যেন নতুন করে কোনো ফসল আবাদ না করি।” তিন ফসলি জমির এ ফসলেই আমরা খাওয়া, সন্তানদের লেখাপড়াসহ সাংসারিক সব চাহিদা মেটাই। জোরপূর্বক নামমাত্র ইজারার মাধ্যমে এসব জমি লিজ নিয়ে ইটভাটা করলে আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব। পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ দূষিত হবে। আশপাশের জমিগুলোও নষ্ট হয়ে যাবে। আমরা এ বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করছি।’

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জাহিদুল আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রেজুলেশনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে তিন ফসলি জমিতে কোনো ইন্ডাস্ট্রি বা ইটভাটা করা যাবে না। বিষয়টি জেলার প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের জানানো হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান বলেন, তিন ফসলি জমিতে যাতে কোনো ইটভাটা গড়ে উঠতে না পারে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button