রংপুর বিভাগসারাদেশ

ঘোড়াঘাটে আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

ঘোড়াঘাট(দিনাজপুর) : দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে এবার আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। উপজেলার চারিদিকে এখন সবুজের সমারহ। উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে এখন রোপা-আমন ধানের সোনালী শীষ দোল খাচ্ছে । ওই সবুজ রংয়ের শীষ বলে দিচ্ছে গ্রামবাংলার কৃষকদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ্অর্জিত রোপা-আমন ধানের মাঠের দৃশ্য। ধান গাছের মাথায় ে এখন কাঁচা সবুজ শীষ। আবাদ আর গাছ দেখে চলতি মৌসুমে রোপা-আমন ধানের বাম্পার ফলনের বুকভরা আশা করছেন কৃষকরা। উপজেলার কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে আগাম ধান চাষ করায় এবং এখন পর্যন্ত কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ায় জমিতে ধান অনেক ভাল রয়েছে। আর তাই কৃষকরা এবারে বাম্পার ফলনের আশাও করছেন। আর প্রায় দুই থেকে তিন সপ্তাহ পরই রোপা-আমন ধান পাকার সম্ভাবনা দেখে ক্ষেতে কৃষকদের স্বপ্ন দোল খাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১টি পৌরসভা ও উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে আমন ধানের চাষের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে ১১হাজার ২০০ হেক্টর জমি। আমনের উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৫০০ মেঃটন। এবছর লক্ষ মাত্রা ছাড়িয়ে ধানের উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর। ধানের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের নিয়ে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ধানের রোগ বালাই দমনে কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। বিশেষ করে ধানে পোকা দমনের জন্য ব্যাপাক কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর।
চাষী বা কৃষকদের সাথে মাঠ পর্যায়ে মতবিনিময়, উঠান বৈঠক, লিফলেট বিতরণ ও আলোক ফাঁদ ব্যবহার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন কৃষি দপ্তর। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় আর সঠিক সময়ে চারা রোপন করায় এবং কৃষকরা তার সঠিক পরিচর্যা করায় এবারে ধানের গাছ এখন পর্যন্ত দেখার মত হয়ে রয়েছে। আর তাই কৃষি অফিসের ব্যবস্থাপনায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় রাসায়নিক ও কীটনাশক ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করেছেন মাঠ পর্যায়ে থাকা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।
উপজেলার কুলানন্দপুর গ্রামের কৃষক ফরহাদ হোসেন জানান, সময়মত পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হওয়ায় এবছর ধান বেশ ভাল রয়েছে। উপজেলার ভর্নাপাড়া গ্রামের জেনারুল হক বলেন, আমি এক জন কীটনাশক কোম্পানীর সেলার। আমি নিজেও এক জন কৃষক, আমি নিজে জমিতে সার কীটনাশক পরিমিত প্রয়োগ ও পরিচর্যা করেছি। আবহাওয়া ্অনুকুলে থাকায় ্অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার ধানের ফলন ভাল হয়েছে। আর দামও ভাল,এতে আমি ্অনেক খুশি। তিনি এবারে ধানের ফলন বাম্পার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। উপজেলা কৃষি ্অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি। কৃষকদের সকল ধরণের পরামর্শ দিচ্ছি। যেন এবারেও ধানের বাম্পার ফলন হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ এখলাস হোসেন সরকার বলেন, এবারে ধানের গাছ ভাল রয়েছে। আমি এবং আমাদের কবৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। জমি থেকে কৃষকের ঘরে তোলা পর্যন্ত ধান যেন ভাল থাকে সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি। তিনি এ বছর ঘোড়াঘাট উপজেলায় ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন।এ বছর আমন ধানের উৎপাদন হচ্ছে একরপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ মণ। খরচ হয়েছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১০৭০ টাকায়। সে হিসাবে প্রতি একরে উৎপাদিত ধান বিক্রি করে পাওয়া যাবে ৫০ হাজার ৫৫ হাজার টাকা। এই ধান কাটার পর জমিতে আগাম আলু চাষের সুযোগ পাচ্ছেন তাঁরা।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button