রাজশাহী বিভাগসারাদেশ

ধামইরহাটে সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের অনিয়ম দুর্ণীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর ধামইরহাট সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখকদের অনিয়ম,দুর্নীতি,অবৈধ অর্থ আদায় ও লুটপাটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষে এক মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে। সোমবার(০৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় সচেতন জনসাধারণ ও কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগিতায় ধামইরহাট-নওগাঁ সড়কের উপজেলা ক্যান্টিন চত্ত্বরে প্রায় ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়।মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন ধামইরহাট ইউপি চেয়ারম্যান মো.কামরুজ্জামান,সহকারি অধ্যাপক ফরিদুজ্জামান,আব্দুল মালেক,রাসেল মাহমুদ,মাবুদ হোসেন,মফিজ হোসেন প্রমুখ। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী দলিল গ্রহিতা ধামইরহাট পৌরসভার মালাহার গ্রামের মো.ফরিদুজ্জামান বলেন,গত ফেব্রুয়ারী মাসের ১৬ তারিখে তিনি ৬ শতাংশ জমি নিবন্ধন করেন। তাকে সরকারি ফি থেকে কয়েক গুন বেশি টাকা বিশ হাজার টাকা দিতে হয়। গত ১৬ ফেব্রুয়ারী তারিখে বিষয়টি নিয়ে তিনি ধামইরহাট সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ও সম্পাদক বরাবর লিখিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেন। তারপরও তার কোন সুরাহা তিনি পাননি। একই গ্রামের মো.মফিজ হোসেন বলেন,চলতি মাসের ৩ তারিখে পৌরসভার অন্তর্গত মালহার মৌজায় ২০ শতাংশ জমি তার স্ত্রীর নামে নিবন্ধন করেন। এতে জমি নিবন্ধন সরকারি ফি ৩১ হাজার ৫শত টাকা প্রাপ্য হলেও তাকে সবমিলিয়ে সমিতিকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়। বিপুল সংখ্য দলিল লেখক অসহায় মানুষকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও অর্থ আদায় করছেন। যেন দেখার কেউ নেই। বর্তমানে ধামইরহাট দলিল লেখক সমিতিতে সদস্য রয়েছেন ১শত ৪৬ জন। এ ব্যাপারে ধামইরহাট সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো.ইব্রাহিম হোসেন বলেন,আমাদের কোন সমিতি নেই। অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারি ফির বাহিরে অর্থ নেয়া হয় না। যদি কেউ খুশি মনে দলিল লেখনির জন্য কিছু দেয় তবে আমরা তা গ্রহণ করি। ধামইরহাট সাব রেজিষ্ট্রার মো.আব্দুস সালাম বলেন,আমাকে কেউ লিখিত বা মৌখিক কোন অভিযোগ দায়ের করেননি। এখানে বিধি সম্মত সমিতি ছিল না তাই গত ৭ মার্চ সমিতি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। এ উপজেলায় যোগদানের পর গত ২০২০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী এবং চলতি মার্চ মাসের ৭ তারিখে সকল দলিল লেখকদের দলিল নিবন্ধন করতে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফির বাহিরে কোন প্রকার অর্থ নেয়া যাবে না মর্মে তাদেরকে লিখিত নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। তারপরও কেউ এ আদেশ অমান্য করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করলে দলিল লেখক বিধিমালা ২০১৪ এর ১০(২) উপবিধি মোতাবেক অভিযুক্ত ওই দলিল লেখকের সনদ বাতিল যোগ্য হবে।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button