রাজশাহী বিভাগসারাদেশ

পরীক্ষিত সৈনিকদের হাতে মুল নেতৃত্ব থাকবে: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

নওগাঁ প্রতিনিধি: পরীক্ষিত সৈনিকদের হাতে মুল নেতৃত্ব থাকবে জানিয়ে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন- সবসময় সুদিন থাকবে না। সবসময় একটি দল ক্ষমতায় থাকবে সেটি মনে করা সমিচিন নয়। জনগণ যদি আমাদের পক্ষে রায় দেয় তাহলে আবারও আমরা জনগণের ম্যাগনেট নিয়ে ক্ষমতায় যাবো। কিন্তু যে কোন পরিস্থিতির জন্য আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। যারা ক্ষমতার হালুয়া-রুটি নেওয়ার জন্য পিঠ বাঁচানোর জন্য দল করে তাদেরকে নেতৃত্বে বসানো যাবে না। যারা ১৩ বছরে নতুন করে আওয়ামী লীগ হয়েছে তাদেরকে নেতৃত্ব দেওয়ার দরকার নাই। তবে অবশ্যই তারা আওয়ামী লীগ করবে। আওয়ামী লীগ জনসংগঠন। এখানে সবার স্থান আছে। পরীক্ষিত সৈনিকদের হাতে মুল নেতৃত্ব থাকবে। যারা দুঃসময়ে পাশে ছিল। যারা জায়গা দখল, মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং উদ্বৃত্ত আচরণ করে দল ক্ষমতায় বলে তাদেরকে নেতৃত্ব বসানো যাবে না। তাই সঠিক নেতৃত্ব বেছে নিতে হবে।

নওগাঁ পৌর শাখা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বুধবার দুপুরে নওগাঁ জিলা স্কুল মাঠে নওগাঁ পৌর শাখা আওয়ামী লীগ এর আয়োজন করে। নওগাঁ পৌর শাখা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান ছেকার আহমেদ শিষাণ এর সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক। প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস বিকৃতি করা হয়েছে। খলনায়ককে নায়ক বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে যখন হত্যা করা হয় তখন বাংলাদেশের জিডিপি ছিল ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ। বর্তমানে জিডিপি ৮শতাংশ। স্বাধীনতার এতো বছর পরও আমরা বঙ্গবন্ধুর রেকর্ড ভাঙতে পারিনি। বঙ্গবন্ধু যখন দেশকে সমৃদ্ধ করতে চেষ্টা করেছিল তারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল উন্নত সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়ার। বাংলাদেশ দূর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। শহরের পাশাপাশি সমান তালে গ্রামও এগিয়ে যাচ্ছে। এখন গ্রামের ছেলে-মেয়ে ও শহরের ছেলে-মেদের কোন পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায় না। এখন কুঁড়ো ঘর ও মেঠোপথ খুঁজে পাওয়া যায় না। দেশের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। আমাদের মাথাপিছু আয় ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছে। আমাদের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে পাকিস্থান।

বিএনপিকে নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি এখন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে ব্যস্ত। দেশের উন্নয়নে দেশের মানুষ খুশি হচ্ছে কিন্তু বিএনপি অখুশি হচ্ছে। খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরাতেও মির্জা ফখরুল ইসলামরা অখুশি হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশে যেভাবে গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে আশপাশের দেশেও এই ভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি সবাই যখন সার্চ কমিটি নাম জমা দিয়েছে সেখানে হাত গুগিয়ে বসে আছে। যেখানে সার্চ কমিটিতে তিনশতাধিক নাম পড়েছে সেখানে বিএনপি ঘরে বসে থাকলেও কিছু আসে যায় না। অনেকে বলছে- বিএনপি আসলে অন্যদের মাধ্যমে নাম জমা দিয়েছে।

গ্রহনযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যখন সমাজের সকল স্তরের মানুষ ও রাজনৈতিক দলকে অন্তভর্’ক্ত করে নির্বাচন কমিশন গঠন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যখন সবাই গিয়ে সার্চ কমিটির সঙ্গে দেখা করলো এবং নাম জমা দিলো তখন বিএনপি আসামির কাঠগরায় দাঁড়ালো। সেই আসামীর কাঠগরাই দাঁড়ানো প্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। আসামীর জবানমন্দি হিসেবে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বাংলাদেশে এমন একটা নির্বাচন কমিশন গঠন করা হবে যা সবার কাছে গ্রহনযোগ্যতা পাবে। সেই নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে দেশে একটি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হবে।

তরুনদের উদ্যেশ্যে তিনি বলেন- ক্ষমতায় থাকলে বিনয়ী হতে হয়। ক্ষমতায় থেকে যারা উদ্বৃত্ত আচরণ করে সমস্ত উন্নয়নে মানুষ খুশি হয়না। এতে মানুষ বিরক্ত হয়। ক্ষমতায় থাকলে বিনয়ী হতে হয় সকল নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানান তিনি। যদি কেউ উদ্বৃত্ত আচরণ করে তাকে সংশোধন হওয়ার সময় দিতে হবে। তারপরও যদি সংশোধন না হয় দল থেকে বের করে দিতে হবে।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button