রাজশাহী বিভাগসারাদেশ

বন্যা আতঙ্কে সিরাজগঞ্জবাসী

ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বাড়ছে। জেলার কাজিপুর পয়েন্টে এ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া, সিরাজগঞ্জ পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমার খুব কাছে থাকায় জেলার চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের মাঝে বন্যা আতঙ্ক বিরাজ করছে।

দ্রুত যমুনার পানি বাড়ায় প্রতিদিনই নদীর তীরবর্তী নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তলিয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে নদী ভাঙন।

শনিবার (১৮ জুন) সকালে সিরাজগঞ্জ শহরের হার্ডপয়েন্ট এলাকায় যমুনার পানি গত ১২ ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া, কাজিপুর পয়েন্টে যমুনার পানি ১২ ঘণ্টায় ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া, জেলার অভ্যন্তরীণ ফুলজোড়, ইছামতি, করতোয়া, বড়াল, হুড়াসগরসহ অন্যান্য নদী ও খাল-বিলের পানি বাড়ছে। এতে চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এসব এলাকার পাট, তিল, কাউন, বাদাম, শাক-সবজিসহ উঠতি ফসল নষ্ট হচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষক।

চৌহালীর খুকনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁদ মিয়া জানান, পানি বাড়ার ফলে এক সপ্তাহ আগে মুহূর্তের মধ্যে ব্রাহ্মণগ্রামের অন্তত ২০টি বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়া, হুমকির মুখে রয়েছে বহু বসতবাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। ভাঙন এলাকা রক্ষায় স্থায়ী বাঁধের কাজ দ্রুত করা হোক। দ্রুত ভাঙন বন্ধ না হলে বিলীন হয়ে যাবে বিশাল এলাকা।

কাজিপুরের তেকানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ বলেন, যমুনার পানিতে চরাঞ্চলের মাঠ তলিয়ে গেছে। চরাঞ্চলের মানুষ রয়েছে বন্যার আতঙ্কে। চরগুলোতে পানি ওঠায় গবাদী পশু নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছে লোকজন।

সদর উপজেলার কাওয়াকোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়া মুন্সী জানান, গত চার দিনেই চর বয়ড়া, বর্ণি, দোরতা, সয়াশাখা ও কাটাঙ্গা চরের নিচু জমিগুলো প্লাবিত হয়েছে। যেভাবে বাড়ছে তাতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বাড়ি ঘরে পানি উঠতে পারে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন জানান, যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এভাবে পানি বাড়লে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

তিনি আরও জানান, পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার কাজীপুর, চৌহালী, এনায়েতপুর ও শাহজাদপুরের চরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে ভাঙন। ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোতে প্রায় ৪০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ভাঙন রোধে ৩০ হাজার জিও ব্যাগ প্রস্তুত রয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে আরও ৯৬ হাজার জিও ব্যাগ আমাদের হাতে আসবে। আসা মাত্রই ভাঙন কবলিত এলাকায় দ্রুতই ফেলা হবে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, ২২ থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত যমুনার পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  ভাঙনসহ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button