রাজশাহী বিভাগসারাদেশ

মাদক দ্রব্যের অভায়াশ্রম ধামইরহাট

ধামইরহাট (নওগাঁ)  প্রতিনিধিঃ মাদক দ্রব্যের অভায়াশ্রম এখন নওগাঁর  ধামইরহাটের সীমান্ত এলাকাগুলো। উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামের মাদক চোরাকারবারিরা ভারত থেকে রাতের অন্ধকারে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোক ফাঁকি দিয়ে মাদকদ্রব্য এনে এক জায়গায় মজুত করে রাখে। মজুত রাখা মাদক দ্রব্যগুলো সময় সুযোগ বুঝে নারী ও শিশুদের দিয়ে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে বিভিন্ন স্থানে পৌচ্ছে দিচ্ছে চোরাচালানির একটি সক্রিয় চক্র। আর খুচরা বিক্রেতা ও সেবীরা মাঝে মধ্যেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনির নিকট আটক হলেও রাঘব বোয়ালরা অদৃশ্য কারণে ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকছে। এ রাঘব বোয়ালদের ছত্র ছায়ায় নিত্য নতুন ব্যবসায়ী গজিয়ে এলাকায় প্রকাশ্যে দাপটের সহিত বিক্রি করছে ফেন্সিডিল, মদ, ইয়াবা, হিরোইনসহ বিভিন্ন প্রকার নেশা জাতীয় পণ্য। এ অঞ্চল  এখন মাদকদ্রব্যের  অভয়াশ্রম হিসেবে পরিচত  লাভ করেছে। কতটা আইনের অবনতি হলে এভাবে প্রকাশ্যে মাদকদ্রব্য বহন ও সেবন চলে এমন প্রশ্ন এখন অনেকের মুখে মুুুখে। স্কুল/কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর যুবক ও নানান পেশার মানুষ মাদকের করাল গ্রাসে নিমর্জিত হয়ে অন্ধকার জগতের দিকে ধাপিত হচ্ছে । সর জমিনে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্পটে মোটর বাইক, ইজিপাওয়ার, প্রাইভেট কার, ভুটভুটিসহ বিভিন্ন যানবাহন যোগে প্রায় ৩ থেকে ৪’শ মাদক সেবনকারীর আগমন ঘটে। এ সব যানবাহনের বেপরোয়া ছুটা-ছুটির কারণে সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠিয়ে অভিভাবকরা থাকে মহা দূচিন্তায়। এ ভেবে বেপরোয়া ওই সব যানবাহনের ধাক্কায় কখন যে অনাঙ্খিত ঘটনার খবর এসে পৌচ্ছে কানে। সেবনকারীরা অনেক সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মুখোমুখি হলে তারা আত্নীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়ানোর কথাসহ নানান অজুহাত দেখিয়ে পেরিয়ে যায়। আন্যদিকে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারি মাঝে মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট আটক হলেও আইনের ফাঁক-ফোকর দিয়ে জেল/হাজত থেকে বের হয়ে এসে আবার পূর্বের পেশায় ফিরিয়ে যায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো যেমন রুপনারায়নপুর, পাগলাদেওয়ান, কালুপাড়া, আলতাদিঘী, মঈশড়, দাদনপুর, খয়েরবাড়ি, বাসুদেবপুর, খড়মপুর, কৈগ্রাম, কুলফৎপুর, বস্তাবর, শিমুলতলী, আগ্রাদ্বিগুনসহ সীমান্ত ঘেঁষা গ্রাম গুলোতে দেদারছে ফেন্সিডিল, গাঁজা, মদসহ বিভিন্ন প্ররকার নেশা দ্রব্য বিক্রি হচ্ছে। হাতের নাগালে এ সব মাদক পাওয়ায় মধ্য বয়সী যুব সমাজ মাদকাসক্ত হয়ে বিভিন্ন রকমের অসামাজিক কার্যকলাপ যেমন চুরি, ছিনতাই পরিবারের সদস্যদের সাথে খারাপ আচরনে  জড়িয়ে পড়ছে নেশার টাকা জোগাড় করতে। এ ব্যাপাারে প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক ব্যক্তি তাদের অভিপ্রায় ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে কিছু দিন মাদকাসক্তের সংখ্যা কমলেও ফের বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও গ্রামের অলিতে-গলিতে ফেরী করে মাদক বেচা-কেনা করছে।  অনেক সময় দেখা যায় মাদকসেবীদের মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে মামলা দায়ের করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ  । আর রাগব বোয়ালরা থাকছে ধরা ছোঁয়ার বাহিরে। তারা দিদারচে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ব্যবসা করে অনেকে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়েছে। আগামী দিনের ভবিষ্যৎ স্কুল/কলেজের শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষার্থে মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। এ ব্যাপারে বিজিবি’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা হলে তাঁরা জানান, মাদকের বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স। মাদক নিয়ে কোন আপোষ নেই। সীমান্তে টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে কোন ভাবেই মাদক দ্রব্য বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button