রংপুর বিভাগসারাদেশ

সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এমপি শিমুলের স্ত্রীর নামে কানাডায় বাড়ির কেনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এখন এক্ষেত্রে তিনি যে বাড়ি কিনলেন, সেই অর্থের উৎস কী? কীভাবে তিনি এত টাকা আয় করলেন? বাড়িটা কেনার সময় কীভাবে অর্থ পরিশোধ করেছেন?— এগুলো দেখতে হবে। এক্ষেত্রে বিলম্বিত করা কোনোভাবেই উচিত নয়। একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসা মানেই তো তিনি অপরাধী নন। কিন্তু, দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। এরপর অভিযুক্ত হলে আইন তো আছেই। এক্ষেত্রে আমি বলব, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত অনুসন্ধান করা উচিত। কোনোভাবেই কালক্ষেপণ করা ঠিক হবে না।’ সরকারিভাবে তদন্তে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা না যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নানা রকমের অনিয়ম-দুর্নীতি বাংলাদেশে এক ধরনের ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহুদিন থেকেই এগুলো হচ্ছে। অনেক সময় শনাক্ত হয় যে, কে বা কারা এগুলো করেছে। কিন্তু, তাদের কোনো শাস্তি হয় না। তদন্ত সংস্থাগুলোও দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত করে না। এসব তদন্ত দৃশ্যমানও না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তদন্ত প্রতিবেদনগুলো গোপন রাখা হয়। অথচ এসব তদন্তের ক্ষেত্রে অন্তত সারাংশ হলেও জানানো দরকার যে, এটা নিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত করা না গেলেও কী পাওয়া গেছে, সেগুলো জানানো উচিত। কিন্তু, তা করা হয় না। বরং তদন্তের নামে কালক্ষেপণ করা হয়। যেমন: বেসিক ব্যাংকের বিষয়টি নিয়ে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। সময় চলে যাচ্ছে, দুদকও কিছু করছে না। সময় চলে গেলে ইস্যুগুলোও দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়।’ ‘টাকা পাচারের মতো দুর্নীতির ক্ষেত্রে অতিদ্রুত দৃশ্যমান উদ্যোগ না নিলে এগুলো কোনোদিন বন্ধ হবে না। কারা এসব করছে, সেই তথ্য নেওয়া খুব কঠিন কিছু নয়। শুধু প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। যারা দায়িত্বে আছে, তারাই যদি এগুলোর সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তো বিষয়টি অনেক কঠিন হয়ে যায়। আর আমাদের দুদক সত্যিকার অর্থে স্বাধীন কি না, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। তাই এখানে “দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন”হয় না। পৃথিবীর সবদেশেই দুর্নীতি আছে। কিন্তু, পার্থক্য হচ্ছে অন্যান্য দেশে ধরা পড়লে কোনো রেহাই নেই। এখানেই আমি বলব যে, সার্বিকভাবে সুশাসনের অভাব। ফলে প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও একই অবস্থা। সেখান থেকে বের হয়ে আসতে না পারলে ভবিষ্যৎ পরিণতি আরও খারাপ হবে।’

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের ফুলবাড়িতে গুচ্ছগ্রাম (আবাসন প্রকল্প) নির্মাণের এক যুগ অতিবাহিত হলেও ভাগ্যে জোঁটেনি বিদ্যুৎ সংযোগ। শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলা ঘোষণা হলেও চরগোরকমন্ডল খোকার চরের পাঁচটি পরিবারসহ চরগোরকমন্ডল গুচ্ছগ্রামে আবাসনের প্রায় ৪০টি পরিবারের ভাগ্যে এখনো জোটেনি বিদ্যুৎ সংযোগ। প্রায় দু’বছর আগে বিদ্যুতের খুঁটিসহ কারেন্টের লাইন থাকলেও এখনো সংযোগ দেয়া হয়নি গুচ্ছগ্রামে। ফলে সরকারের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এসব পরিবারের সদস্যরা।
ফলে গুচ্ছগ্রাম (আবাসন) প্রকল্পে ৬০ টি পরিবার বছরের পর বছর কুপি, হ্যারিকেনের আলো দিয়ে দুর্বিসহ জীবনযাপন করছে। অনেকেই এই অসহনীয় দূর্ভোগ সহ্য করতে না পেরে গত পাঁচ বছর আগেই ২০ টি পরিবার অন্য জায়গায় ঠাঁই নিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দুরে সীমান্তঘেষা নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের চরগোরকমন্ডল এলাকায় গুচ্ছগ্রাম (আবাসন) ২০১০ সালে নির্মাণ করা হয়। নির্মাণ শেষে উপজেলায় ৬০টি দরিদ্র ভূমিহীন পরিবারের আশ্রয় নেয় গুচ্ছগ্রামে। পরিবার-পরিজন নিয়ে বাসস্থানের সুযোগ পেলেও শতভাগ বিদ্যুতায়িত উপজেলায় তাদের ভাগ্যে জোটেনি পল্লী বিদ্যুতের সুফল। ফলে দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে ল্যাম্প বা কুপি, হ্যারিকেনের আলো দিয়ে দুর্বিসহ জীবনযাপন করতে হচ্ছে এখনো। পর্যাপ্ত গাছগাছালি না থাকায় গরমে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বিদ্যুতের মুখ দেখতে পাচ্ছে না গুচ্ছগ্রামবাসী। এতে করে অন্ধকারেই অর্ধ-শতাধিক স্কুল পড়ুয়া সন্তান নিয়ে ভোগান্তি পড়েছেন।
গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মালেকা বেগম ও আঞ্জু বেগম বলেন, আমরা ১১/১২ বছর ধরে গুচ্ছগ্রামে অন্ধকারেই বসবাস করছি। সব জায়গায় বিদ্যুৎ গেছে। শুধু গুচ্ছগ্রামে নাই। আমরা গুচ্ছগ্রামের নারীরা রাতের বেলা কুপির আলো দিয়েই অনেক কষ্ট করে রান্না-বান্না করি। সেই সাথে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেই কুপির আলো দিয়েই আমাদের সন্তানরা পড়াশুনা করছে। যেন দেখার কেউ নেই।
আবাসনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাসুদ রানা, মাইদুল ইসলাম, আছমা খাতুন ও আম্বিয়া খাতুনসহ অনেকেই জানান, কারেন্ট নেই প্রচণ্ড গরমে আমরা ঠিক মতো পড়াশুনা করতে পারছি না। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেই আমরা কুপি ও হ্যারিকেনের আলো দিয়ে কোন রকমেই পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু গরমের দিনে কুপি ও হ্যারিকেনের আলো দিয়ে বেশিক্ষণ পড়াশুনা করতে পারি না। বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলে আমরা বিদ্যুতের আলো ও ফ্যানের বাতাসে মনের আনন্দে পড়াশুনা করতে পারতাম। তাই গুচ্ছগ্রামে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগের জোড়দাবী জানান কমলমতি শিক্ষার্থীরা।
চরগোরকমন্ডল গুচ্ছগ্রামের সভাপতি আব্দুল মালেক জানান, কি বলবো ভাই। আমাদের মাথা গোঁজার ঠাই না থাকায় সরকার আমাদের ঠাই দিয়েছে। শুনেছি শতভাগ বিদ্যুতায়িত ফুলবাড়ী উপজেলা ঘোষণা করেছেন। অথচ আমরা গুচ্ছগ্রামবাসী বসবাসের প্রায় এক যুগ পেড়িয়ে গেলেও এখন বিদ্যুৎ সংযোগ মেলেনি। অনেক কষ্টে গুচ্ছগ্রামের নারীরাসহ প্রায় ৫০ জন স্কুল পড়ুয়া ছেলে-মেয়ে আছে। রাত হলেই আমাদের মহাবিপদ। নারীরা কুপির আলো দিয়ে রান্না-বান্নাসহ ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা করছে। এক কথাই অনেক কষ্টে পরিবার নিয়ে কোনো রকমেই বেঁচে আছি।
নাওডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মুসাব্বের আলী মুসা জানান, গুচ্ছগ্রামসহ এলাকার খোকার চরে এখনো পাঁচটি অসহায় পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগ পাইনি। গুচ্ছগ্রামসহ ঐ এলাকার পাঁচ পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগের এব্যাপারে বার বার পল্লীবিদ্যুত অফিসে যোগাযোগ করা হলেও কোন কাজ হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
কুড়িগ্রামস্থ লালমনিহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ফুলবাড়ী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোস্তফা কামাল জানান, চরগোরকমন্ডল গুচ্ছগ্রাম (আবাসন) ও খোকার চরে পাঁচটি পরিবারে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। কিন্তু গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দারা ঐ পাঁচটি পরিবার এখনো জামানত, সদস্য ফি ও ওয়ারিং না থাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। যত দ্রুত জামানত, সদস্য ফি ও ওয়ারিং করবে, ঠিক ততো দ্রুত তারা বিদ্যুৎ সংযোগ পাবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুমন দাস জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খোঁজ খবর নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button