রংপুর বিভাগসারাদেশ

সৈয়দপুরে রেলের জমিতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ৫’তলা ভবন নির্মাণ

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের শহর নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার নকশা অনুমোদন না নিয়েই কোটি টাকা মূল্যের রেলওয়ের জমিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে ৫ তলা ভবন। এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই নির্মান করায় ঘটেছে বেশ কয়েকবার দূর্ঘটনা। বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে অবৈভাবে ওভারলোড ওয়েল্ডিং মেশিন ব্যাবহারে নষ্ট হয়েছে আশে-পাশের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি। এতে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা। ক্ষতিপূরণ না পেলে আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন তারা। এত কিছুর পরেও রেল, পৌরসভা ও বিদ্যুত বিভাগ থেকে নেয়া হয়নি ওই নির্মাণকারীর বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রেলওয়ের লীজকৃত জমিতে ভবন নির্মাণ করা অবৈধ তাছাড়া বিমানবন্দর এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের অবশ্যই অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু ইমতিয়াজ প্রবাল নামে এক ব্যক্তি শহরের জিকরুল হক রোডে সৈয়দপুর প্রেসক্লাবের ঠিক পাশেই রেলওয়ের লিজ নেয়া জায়গায় বহুতল ভবন নির্মানের কাজ করছেন। এমনকি সৈয়দপুর পৌরসভারও কোন অনুমোদন নেওয়ারও প্রয়োজন মনে করেননি তিনি। পৌর কর্তৃপক্ষ নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেও নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছেন। যেভাবে নিরাপত্তা ব্যাবস্থা ছাড়া তিনি ওই ভবন নির্মাণ কাজ করছেন তাতে আশে পাশের ব্যবসায়ীসহ পথচারীরা এ পথে চলাচল করছেন আতঙ্কেও মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে রাস্তার উপর ১১০০ ভোল্টেজের তারের উপর রড ফেলে দেয়ায় অগ্নিকান্ডের ঘটনাও ঘটেছে। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণ আনায় ভয়াবহ ক্ষতি থেকে বেঁচে যায় প্রতিবেশীরা। এরপরেও তিনি ২২০ ভোল্টের লাইন দিয়ে ৪৪০ ভোল্টের ওয়েল্ডিং মেশিন ব্যবহার করায় ওভার ভোল্টেজের ফলে পপুলার হোমিও ফার্মেসীর ৩ টি সিসি ক্যামেরা, ২টি এলইডি বাল্ব, মিলন কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক, রাউটার, মিথিলা কম্পিউটারের প্রিন্টার, এলইডি টিউবলাইট, জনি বোরকা হাউসের ২ টি বাল্ব, সিসি ক্যামেরা, নওশাদ ফুল বিতানের কম্পিউটার, আলপনা টেলিকমের একটি মোবাইল সার্ভিসিং ডিভাইসসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা বলেন, রেল, পৌর ও বিদ্যুৎ বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের অর্থের বিনিময় ম্যানেজ করে অব্যাহত রেখেছে অবৈধ ওই বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ। যে কারণে এসব কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও এখন পর্যন্ত তারা নেয়নি কোন ব্যাস্থা।
পপুলার হোমিও ফার্মেসীর মালিক ডাঃ এরশাদ হোসেন বলেন, এভাবে কি করে তিনি দোকানের সাধারণ বৈদ্যুতিক লাইন ব্যবহার করে উচ্চ ভোল্টেজের ওয়েল্ডিং মেশিন চালাচ্ছেন তা বোধগম্য নয়। আমাদের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুরণের দাবি করছি।
সৈয়দপুর নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানীর সাব ইঞ্জিনিয়ার ও এই বিদ্যুৎ লাইনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রাণ কৃষ্ণ রায় জানান, ভবন নির্মাণের যে ওয়েল্ডিং মেশিন ব্যবহার করা হয়েছে তা ৪৪০ ভোল্টেজের। এধরনে মেশিনের জন্য তারের সংযোগপূর্ণ লাইন ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু নির্মাণকারী তা না করে ওভার লোডের কারনে এমটি ঘটেছে।
সৈয়দপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র জিয়াউল হক জিয়া জানান বাংলাদেশ রেলওয়ের সাথে পৌরসভার মামলা চলমান থাকায় এ ধরনের ভবন নির্মানে নকশা অনুমোদন দেয়া বন্ধ রয়েছে। সেক্ষেত্রে এ ভবন নির্মাণেও কোন নকশা অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে মুঠোফোনে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা (পশ্চিম) রেজাউল করিম জানান,আইন অনুযায়ী রেলওয়ে জমি লীজ নিয়ে কেউ বহুতল ভবন নির্মান করতে পারবে না। যদি কেউ করে তাহলে লীজ বাতিল করে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়ের করা হবে।
এদিকে ভবন নির্মাণকারী ইমতিয়াজ প্রবাল ব্যবসায়ীদের ক্ষয় ক্ষতির দায়ভার অস্বীকার করে বলেন, সকল নিয়ম মেনেই ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button