রংপুর বিভাগসারাদেশ

সৈয়দপুরে সড়কের বেহাল দশায় ধস নামছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার গ্রামীন ও আঞ্চলিক সড়কগুলো দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। মাটি ও বালুবাহী ট্রাক্টর চলাচল করায় গ্রামীণ সড়কগুলোর এ দশা। এবারের বর্ষা মৌসুমে বন্যার পানিতে আরও বেশি খারাপ অবস্থার সৃস্টি হয়েছে। যান তো দুরের কথা এখন মানুষের চলাচলও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গ্রামে উৎপাদিত কৃষিপন্যগুলো রাস্তা খারাপের জন্য সঠিক সময়ে বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে গ্রামীন অর্থনিতীতে মারাত্বক ধস নামছে। জন দুর্ভোগ কমাতে গ্রামীণ সড়কগুলো দ্রুত মেরামতসহ এইচবিবি করণ কিংবা পাকা সড়ক নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা দেখা যায় , উপজেলার হাজারিহাট মোড় হতে খাতামধুপুর ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত সড়কের প্রায় ৩ কিলোমিটার, বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের পশ্চিমপাড়ার প্রায় ২ কিলোমিটার, কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের চওড়া বাজার থেকে পূর্ব দিকে প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তার দুপাশের মাটি সরে গিয়েছে। এতে করে সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে।
উপজেলায় বর্তমানে দুই শতাধিক উৎপাদনশীল শিল্পকারখানা রয়েছে। প্রস্তাবিত রয়েছে আরো কয়েক শতাধিক। এসব কারখানায় গ্রামের বহু নারী পুরুষ কাজ করছে। রাস্তার বেহালদশার কারণে নির্দিষ্ট সময়ে শ্রমিকরা কাজে যোগদান করতে পারছেনা। এ ছাড়া মূমুর্ষ রোগীকে সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। প্রায় সময়ই লক্ষ্য করা যায় হাসপাতালে নেওয়ার পূর্বেই রোগী পথেই মারা যাচ্ছে। সড়কের এ অবস্থার কারনে প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্কুল- কলেজের শিক্ষার্থীরাও । খাতামধুপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, চলমান বর্ষাকালে গ্রামীন ওইসব সড়কগুলোতে চলাচল করা একেবারেই বিপদজনক হয়ে উঠেছে।
কামারপুকুর ইউনিয়নের অসুরখাই গ্রামের আজিজার রহমান নামের এক কৃষক বলেন, তার গ্রামে বিভিন্ন শাখা সড়ক কাঁচা রয়েছে। দুই বিঘা জমিতে এবার মরিচ চাষ করেছি। কিন্তু বর্তমান সড়কগুলো বেহাল দশায় যানবাহন আসছে না। এতে করে মরিচ সময়মত বাজারজাত করতে পারছি না। জমিতেই মরিচগুলো নষ্ট হচ্ছে।
খাতামধুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুয়েল চৌধুরী বলেন, রাস্তা সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই সড়ক উন্নয়ন কাজ শুরু হবে।
এব্যাপারে জানতে চাইলে নীলফামারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের (এলজিইডি) সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট সংষ্কারে প্রকল্প ইতোমধ্যে হাতে নেয়া হয়েছে। টেন্ডারের মাধ্যমে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button