ঢাকা বিভাগ

এমএলএম ফাঁদ, ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ

সিআইডির দাবি, পাঁচ লাখ গ্রাহকের বেশির ভাগই নারী

মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কম্পানির (এমএলএম) নামে প্রতারণার অভিযোগে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত শনিবার রাতে সাভারের আমিনবাজার এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। ওই চক্র প্রায় পাঁচ লাখ ব্যক্তির কাছ থেকে ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। প্রতারণার শিকার বেশির ভাগই নারী।

গ্রেপ্তার সাত ব্যক্তি হলেন মো. আবুল হোসেন পুলক (৪০), মো. মাহাদী হাসান মল্লিক (৩৫), মো. মিজানুর রহমান ওরফে ব্রাভো মিজান (৫৫), মো. মহিউদ্দিন জামিল (৩৮), মো. সাইফুল ইসলাম আকন্দ (৪২), মো. কভেজ আলী সরকার (৩৫) ও মো. শাহানুর আলম শাহীন (৪২)। তবে তাঁদের ঠিকানা জানানো হয়নি।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯টি মোবাইল ফোন, ২০টি সিম কার্ড, একাধিক ব্যাংক হিসাবের চেকবই, একাধিক ব্যাংকের এটিএম কার্ড, ভুয়া এমএলএম কম্পানির পরিকল্পনার কাগজপত্র এবং নগদ ৬২ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।

গতকাল রবিবার রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির ঢাকা মহানগরের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক ইমাম হোসেন বলেন, চক্রটির চারটি অনলাইন কম্পানি আছে। এই চারটি কম্পানির মাধ্যমে গত এক বছরে প্রায় পাঁচ লাখ লোকের কাছ থেকে তারা অন্তত ৫০ কোটি টাকা  হাতিয়ে নিয়েছে।

সিআইডির অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক বলেন, এই চক্রের হোতা আবুল হোসেন পুলক ও মাহাদী হাসান মল্লিক। এঁরা দুজন একসময় ডেসটিনিতে কাজ করতেন। সেখান থেকে এমএলএম ব্যবসা সম্পর্কে ধারণা নিয়ে তাঁরা অনলাইনে এই প্রতারণা করে আসছিলেন। এঁরা এক মাসে দ্বিগুণ লাভের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করতেন।

ইমাম হোসেন বলেন, ‘চক্রটির সদস্যরা এটাকে নেটওয়ার্ক মার্কেটিং বলেন। এঁদের মাধ্যমে প্রতারিতদের বেশির ভাগই নারী। পুলিশ এঁদের খোঁজ নিচ্ছে। তারা ঘরে বসে কিছু অর্থ আয় করার লোভে এই চক্রটির ফাঁদে পা দেয়।’

সিআইডি সূত্র জানায়, চক্রটি প্রথমে একটি অনলাইন গ্রুপ খুলে তাদের ব্যবসার বিষয়ে প্রচারণা শুরু করে। কৌশল হিসেবে তারা বলত, তাদের এখানে টাকা বিনিয়োগ করলে ১৫ দিনে অথবা ৩০ দিনে দ্বিগুণ করে দেবে। মাত্র এক হাজার ৮৫০ টাকা জমা দিয়ে তাদের কম্পানির সদস্য হওয়া যাবে বলে চক্রটি প্রচার চালাত।

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, নতুন সদস্য আনতে চক্রটির ভিন্ন কৌশল ছিল। চক্রের সদস্যরা প্রতি নতুন সদস্যের জন্য ৫০ টাকা করে দিতেন। এভাবে দেড় শ সদস্য আনতে পারলে ‘স্টার’ সদস্য ঘোষণা করতেন তাঁরা। আর স্টার সদস্যকে আইফোন, গাড়ি ও বিদেশে ট্যুরের প্রলোভন দেখানো হতো। এসব প্রলোভনে একেকজন কমপক্ষে তিন হাজার নতুন সদস্য নিয়ে আসতেন। আবার বেশি সদস্য আনার জন্য কিছু স্টার সদস্যকে নিয়ে দেশ-বিদেশে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করতেন তাঁরা।

প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া টাকা কোথায় আছে এবং এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো সিআইডি বন্ধ করবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করার এখতিয়ার আমাদের নেই, তবে আমরা এ বিষয়ে সুপারিশ করব। তাঁরা ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকাগুলো বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিয়েছেন। এ ছাড়া প্রতারণা করে হাতিয়ে নেওয়া টাকার মধ্যে কিছু তাঁরা বিনিয়োগ করেছেন, কিছু টাকা দিয়ে বিশাল বিশাল অনুষ্ঠান করেছেন। কিছু টাকা ব্যাংকে রেখেছেন।’

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button