ময়মনসিংহ বিভাগ

শেরপুরে যেমন সেজেছে থানা চত্বর, তেমনি আয়োজন করা হয়েছে পিঠা উৎসবের

শেরপুর প্রতিনিধি : যেমন সেজেছে শেরপুরের শ্রীবরদী থানা চত্বর, তেমনি আয়োজন করা হয়েছে পিঠা উৎসবের। শেরপুর জেলার হারিয়ে যাওয়া পিঠার স্বাদ ফিরে পেতে এ পিঠা উৎসব। এসব পিঠা উৎসবে ভীড় করছে নানা শ্রেনী পেশার মানুষ। আর পুলিশও সাধারণ মানুষের সাথে দুরত্ব কমাতে আয়োজন করছে পিঠা উৎসবের।

শেরপুর জেলার মানুষ আগে থেকেই পিঠার খেতে ভালবেসে থাকে। নতুন ঘরে তুলার পর গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে তৈরী করা হতো নানা ধরনের পিঠা। কিন্তু কালের বিবর্তে এসব পিঠা হারিয়ে যেতে বসেছে। আর এসব পিঠাকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে জেলার বিভিন্ন স্থানে আয়োজন করা হয়ে থাকে পিঠা উৎসব। এসব পিঠা উৎসবে ভিড়ও করে আগ্রহী নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। এবার বিজয়ের ৫০ বৎসর পূর্তি ও মুজিববর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে অনেকেই পিঠা উৎসবের আয়োজন করে আসছে।

এসব উৎসবে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ভাপা পিঠা, চিতই, দুধ চিতই, পাটিসাপটা, নারকেল পুলি, দুধ পুলি, পুডিং, পায়েস, কেয়া, মাধবীলতাসহ অনেক রকমের বাহারি নামের পিঠা খাওয়ানো ও প্রদর্শিত হয়। আর সাথে বিভিন্ন রকমের ভর্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে পিঠা খাওয়ার জন্য।

শেরপুরের শ্রীবরদী থানায় আয়োজিত পিঠা উৎসব ছিলো দেখার মতো। শ্রীবরদী থানা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে দু’দিন ব্যাপী পিঠা উৎসব ১৯ ডিসেম্বর রাতে শেষ হয়েছে। শেরপুরের ইতিহাসে এই প্রথম শ্রীবরদী থানার উদ্যোগে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। এই আয়োজনে সতঃস্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন সাধারণ মানুষও। এখানে নানা ধরনের পিঠা প্রদর্শনসহ থানা সেবা পেতে আসা জনগনকে খাওয়ানো হয় নানা ধরনের পিঠা। আগত অতিথিদের গরম গরম পিঠার স্বাদ দিতে থানা চত্বরেই পিঠা তৈরীর ব্যবস্থা করা হয়। অতিথিরা নিজেদের চাহিদামত কয়েক প্রকার গরম পিঠার স্বাদ পেয়ে আনন্দিত। আর পিঠা খেতে পেরে সাধারণ মানুষও পুলিশের প্রতি হয় বেজায় খুশি।

মূলত পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মাঝে দূরত্ব কমাতে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছিলো বলে জানালেন শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, পুলিশের সাথে সাধারন মানুষের দুরত্ব কমাতে নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। এবারের পিঠা উৎসবও এরই অংশ।

এ ব্যাপারে বুলবুল আহাম্মেদ জানান, আমরা আজ যে পিঠাগুলো দেখলাম আর খাইলাম সেগুলো আগে খুব খাইতাম। কিন্তু এখন বাসায় কম তৈরি হয় বলে এখন আর বেশি খাওয়া হয় না। পিঠা উৎসব না হলে এসব পিঠা আবার আগের মত দেখাই হতো না।

সেবা প্রার্থী মো: দুলাল মিয়া জানান, আমরা এর আগে অনেক থানায় এসেছি, কেউ একটা চাও খাওয়াই নাই। আজ পিঠা খেতে পেরে আমরা খুব আনন্দিত। এর আগে এমন উদ্যোগ আর দেখি কোন থানায়।

থানার পাশে বাড়ি রিপা রানি তিনিও এ আয়োজনটি মিস করতে চাননি বলে এসেছেন পিঠা খেতে। পিঠা খেয়ে তিনি খুবই আনন্দিত। কারণ এর আগে কখনও থানায় এসে কিছু খাওয়ার সুযোগ পাননি। তার ছেলে/মেয়েসহ এসে পিঠা খেয়ে গেলেন।

পরিদর্শনে আসা শেরপুরের পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, পুলিশ আর সাধারণ মানুষের মধ্যে আমরা কোন দূরত্ব রাখতে চাই না। আমরা সবাই মিলে সুন্দর শেরপুর গড়ে তুলবো।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button