রাজশাহী বিভাগ

পুষ্টির চাহিদা পূরণে জিংকসমৃদ্ধ ধান উৎপাদন জোরদার করতে হবে

-কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার অতিরিক্ত পরিচালক

পুষ্টির চাহিদা পূরণে জিংক সমৃদ্ধ ধান উৎপাদন ও বাজারজাত করণ জোরদার করতে হবে। জিংকসমৃদ্ধ ধান উৎপাদন ও বিপণনের অংশীজনদের উদ্বুদ্ধকরণে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। এই ধান উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন বেশ কয়েক বছর আগে এই অঞ্চলে জিংক সমৃদ্ধ ধান উৎপাদন শুরু হয়েছে। এই ধান উৎপাদনে কৃষকদের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। পুষ্টির চাহিদা পূরণে জিংকসমৃদ্ধ ধান উৎপাদনের বিকল্প নেই।
গতকাল বগুড়ায় হোটেল মম ইন এর কনভেনশন হলে হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশ আয়োজিত “বায়োফর্টিফাইড জিংক ধান উৎপাদন ও ভোগ বৃদ্ধি” বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়ার অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ ইউসুফ রানা মন্ডল প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ড. খায়রুল বাসারের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) রংপুর ও রাজশাহী অঞ্চলের যুগ্ম-পরিচালক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশের ডেপুটি-কান্ট্রি ম্যানেজার ড. এম.এ সালেক, বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান, টিএমএসএস পরিচালনা পর্ষদের উপদেষ্টা আয়শা বেগম প্রমূখ। মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশেন করেন হারভেস্ট প্লাসের সিবিসি প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর আবু হানিফা। কর্মশালায় অংশ নেন কৃষি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা ও গবেষকরা। কর্মশালায় তারাও তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
ড. খায়রুল বাসার বলেন, মানবদেহের জন্য জিংকের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। সবার পুষ্টি নিশ্চিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে জিংকসমৃদ্ধ ধান। পুষ্টির চাহিদা পূরণে জিংকসমৃদ্ধ ধান উৎপাদন সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রতিবছর জিংকের অভাবে ৩৬ ভাগ শিশু ও ৫৭ ভাগ মহিলা অপুষ্টিতে ভুগছে। পাশাপাশি ৪৪ ভাগ কিশোরী জিংকের অভাবে খাটো হয়ে যাচ্ছে। হারভেস্ট প্লাস বাংলাদেশের গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা জিংকসমৃদ্ধ খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। জিংকসমৃদ্ধ ধান উৎপাদনের মাধ্যমেই পুষ্টির চাহিদা পূরণ সম্ভব।
কর্মশালায় জানানো হয়, জিংকসমৃদ্ধ দুটি জাতের ধান দেশে চাষাবাদ শুরু হয়েছে। আরও একটি জাতের ধান শীঘ্রই কৃষক পর্যায়ে পৌঁছাবে। উত্তরবঙ্গে কৃষকদের মধ্যে জিংকসমৃদ্ধ ব্রি-৭৪ ও ব্রি-৮৪ জাতের ধানের চাষের আগ্রহ বেড়েছে।
ব্রি-৭৪ জাতের ধান ১৪৭ দিনের মধ্যে ফলন পাওয়া যায়। এতে প্রতি কেজিতে জিংকের পরিমাণ ২৪ দশমিক ২ মিলিগ্রাম। প্রতি বিঘায় ফলন হয় ২৪-২৮ মন। এই চাল মাঝারি চিকন হয়।
অপরদিকে ব্রি-৮৪ জাতের ধান ১৪৫ দিনের মধ্যে ঘরে তোলা যায়। এই ধানে প্রতি কেজিতে জিংকের পরিমাণ ২৭ দশমিক ৬ মিলিগ্রাম। আর প্রতি বিঘায় উৎপাদন হয় ২০-২৭ মন। এই ধানের চাল মাঝারি চিকন ও বাদামি রঙের। আরও একটি জিংকসমৃদ্ধ নতুন জাতের ধান শীঘ্রই কৃষক পর্যায়ে পৌঁছাবে। সেটির নামকরণ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু-১০০। এই ধান ১৪৮ দিনের মধ্যে ঘরে তোলা যায়। এই ধানের চালে প্রতি কেজিতে ২৫ দশমিক ৭ মিলিগ্রাম জিংক আছে। প্রতি বিঘায় ফলন হয় ২৬ মন।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button