রংপুর বিভাগ

নীলফামারীর তিস্তার রুপালী চর সবুজের চাদরে ঢাকা

উৎপাদন হবে ৩০ কোটি টাকার ফসল

নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি: তিস্তার বুকে জেগে উঠা রুপালী বালু চরে এবারে শীত মৌসুমে ঢাকা পড়েছে সবুজের চাদরে। বন্যার ধকল কাটিয়ে শত শত কৃষকের ফসলের মাঠে চলছে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার প্রানান্তর চেষ্টা। তবে ব্যাংক থেকে সুদবিহীন শষ্য ঋণ না পাওয়ায় তাদের দ্বারস্থ হতে হয়েছে দাদন ব্যবসায়ীদের। তাদের লাভের অংশ যায় দাদন ব্যবসায়ীদের পেটে। সবকিছু ঠিক থাকলে নীলফামারীর ডিমলা আর জলঢাকা উপজেলায় জেগে ওঠা তিস্তা নদীর ২৩ টি চরে উৎপাদন হবে কমপক্ষে ৩০ কোটি টাকার ফসল।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বর্ষা মৌসুমের প্রলয়ঙ্কারী তিস্তায় এখন নেই তেমন একটা প্রবাহ। শীতের শুরুতে নদীতে প্রবাহ নেই বললেই চলে। জেগে উঠেছে চর। দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত রুপালী বালু চরে সবুজের সমারোহ। চরগুলোতে ভুট্টা, সরিষা, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, তরমুজসহ ১০ ধরনের ফসল চাষ করছে কৃষকরা। সেই ফসলকে ঘিরে আগামীর স্বপ্ন বুনছেন নদী পাড়ের মানুষ।
নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী, খালিশা চাপানী, টেপাখড়িবাড়ী, পূর্ব ছাতনাই, গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও সউলমারী ইউনিয়নে তিস্তার ২৩ টি চরে তিন হাজার দুইশ’৭৩ হেক্টর জমিতে আবাদ হচ্ছে এসব ফসল। ডিমলায় দুই হাজার ৯শ’৪৫ হেক্টর ও জলঢাকায় ৩শ’২৮ হেক্টর জমি চর বেষ্টিত।
গেল বন্যায় কাটা ধানসহ সহায় সম্বল হারানো মানুষগুলো এখন ঘুরে দাঁড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সম্ভবনার ফসল উৎপাদনে। তবে ডিজেল ও সারের দাম বেশী হওয়াসহ দাদন ব্যবসায়ীদের সুদ পরিশোধের পরে কাঙ্খিত লাভ নিয়ে দূঃশ্চিন্তায় রয়েছে এসব কৃষক। এদিকে উর্বর চরে স্বাচ্ছন্দে বিভিন্ন ফসল ফলাতে সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি সুদবিহীন শষ্য ঋণের দাবী তাদের।
ঝুনাগাছ চাপানী চরের জাহিদুল ইসলাম বলেন, গত আমন মৌসুমে হঠাৎ বন্যার কারনে ধান ঘরে তুলতে পারি নাই। জমিতে কাটি থোয়া ধান বানির পানিত ভাসি গেইছে। যেগুলা পাকা ধান কাটার অপেক্ষায় আছিল তাও বানের পানিত তলে থাকি পচি নষ্ট হয়া গেইছে। ভাত খাওয়ার মতো কোন ধান ঘরে তুলিবার পাই নাই। এবার ৭৫ শতক জমিত ভুট্টা চাষ করছি। ভুট্টা লাগার পরে এখন সার আর তেলের দাম বাড়ি গেইছে। কাটা মাড়াইর সময় যদি ভুট্টার দাম না বাড়ে তাহইলে এবারও হামরা মাঠে মরে যামো। তার উপর এই আবাদ করছি দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থাকি সুদের টাকা নিয়া। ফসল উঠলে বিক্রি করি আগোত সুদসহ টাকা দিবার নাইগবে। তাই সরকারের কাছোত দাবি তেল ও সারের দাম কমে দিলে হামরা বউ-ছাওয়া নিয়া বাচমো।
একই এলাকার জরিনা বেওয়া বলেন, তেল ও সারের দাম বাড়ি যেয়া বাবা মোর আবাদ করিবার টাকা শেষ হয়ে গেইছে। এখন মোরঠে কোন টাকা পাইসা নাই। বাকি আবাদ এলা কেমন করি করোও। বাড়ির গোরত এক দাদন ব্যবসায়ীরঠে সুদের উপর টাকা নিয়া আবাদ শুরু করছু। ফসল তোলার সময় যদি দাম ভাল পাও তাহইলে লাভের মুখ দেখিম। আর দাম না পাইলে তো গরু বাছুর ব্যাচে সুদের টাকা দিবার নাইগবে।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button