জাতীয়রাজনীতি

খালেদা জিয়া ক্লিনিক্যালি স্থিতিশীল, তবে রোগমুক্ত নন : মেডিক্যাল বোর্ড

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড বলেছে, খালেদা জিয়া ‘ক্লিনিক্যালি স্থিতিশীল’। তবে তিনি সুস্থ নন, রোগমুক্ত নন। এখনো স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছেন তিনি। মাঝে মাঝে মৃদু রক্তক্ষরণ হচ্ছে।

হাসপাতালে করোনা সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কা থেকে তাঁকে বাসায় যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।

 

আজ মঙ্গলবার হাসপাতালে সংবাদ সম্মেলনে মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদার বলেন, খালেদা জিয়া বর্তমান স্থিতিশীল থাকায় করোনা সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কা থেকে তাঁকে বাসায় রেখে চিকিৎসা করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। কোনো কারণে তাঁর পরিস্থিতি আবার জটিল হলে হাসপাতালে এনে চিকিৎসা করানো হবে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সম্ভব এমন সব চিকিৎসায় আমরা দিয়েছি। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়েছি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নিতে হবে। তাঁর যে রোগ এর শেষ চিকিৎসা লিভার প্রতিস্থাপন। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসনের এখনো সে অবস্থা তৈরি হয়নি। ’

অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, খালেদা জিয়ার পরিপাকতন্ত্রের ওপরের দিকে ১১টি এবং ক্ষুদ্রান্তে দুটি রক্তক্ষরণের উৎস বন্ধ করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে এন্ডোস্কপিতে চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় ক্যাপসুল এন্ডোস্কপি করা হয়েছে। আপাতত তাঁর বড় ধরনের রক্তক্ষরণ হচ্ছে না। তবে আবার রক্তক্ষরণ হবে না এমন নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার একটি টিউমার অপারেশন করা হয়েছে। কিন্তু তাঁর জীবন হুমকি নিয়ে এত ব্যস্ত যে ওই অপারেশন-পরবর্তী চিকিৎসা স্থবির হয়ে আছে। লিভার সিরোসিসের চিকিৎসাও করা যায়নি।

এফ এম সিদ্দিকী জানান, এভারকেয়ার হাসপাতালে জানুয়ারি মাসে ৩৮০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এ জন্য খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা চিন্তা করে তাঁকে বাসায় রেখে চিকিৎসা করানো হবে। কারণ তিনি করোনা সংক্রমিত হলে পরিস্থিতি জটিল হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্য চিকিৎসদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শেখ আবু জাফর, জাফর ইকবাল, সাদিকুল ইসলাম, মো. আরেফিন, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ডা. রফিকুল ইসলাম।

এদিকে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ৮০ দিন পর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন। এত দিন তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

আজ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টায় হাসপাতাল থেকে বাসার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। নেতাকর্মীদের ভিড় ঠেলে রাত সাড়ে ৮টায় ফিরোজায় পৌঁছান বিএনপি প্রধান।

শরীরের অভ্যন্তরে অতিরিক্ত রক্তক্ষণের কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৩ নভেম্বর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর আগে দুই দফায় ওই হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।

৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। গত বছর এপ্রিলে করোনা সংক্রমণ হলে এভারকেয়ার হাসপাতাল ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। সে দফায় ৫৪ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বাসায় ফিরেছিলেন। গত নভেম্বরের শেষের দিকে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত।

বিএনপি নেতারা এর মধ্যে বেশ কয়েকবার খালেদা জিয়ার জীবনশঙ্কা প্রকাশ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নেওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন। এই দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করে বিএনপি।

বাসায় পৌঁছলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বেগম জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার ও তাঁর স্ত্রী কানিজ ফাতেমা, প্রয়াত ভাই সাঈদ এস্কান্দারের স্ত্রী নাসরিন এস্কান্দার এবং দলের কেন্দ্রীয় নেতা আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারসহ অন্যরা তাঁকে স্বাগত জানান।

এদিকে খালেদা জিয়াকে দেখতে হাসপাতালের সামনে কয়েক শ নেতাকর্মী জড়ো হন। গুলশানের বাসার সামনে হাজির হন হাজারখানেক নেতাকর্মী। নেতাকর্মীদের ভিড়ে গাড়ি বাসায় ঢোকাতেও নিরাপত্তাকর্মীদের হিমশিম খেতে হয়। বাড়ির সামনের সড়কের দুই পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে দলীয় নেত্রীকে হাত তুলে সালাম জানান তাঁরা। এ সময় মাস্ক পরা অবস্থায় গাড়ির ভেতর থেকে হাত নাড়িয়ে তাঁদের শুভেচ্ছার জবাব দেন তিনি।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button