জাতীয়রাজনীতিলিড নিউজ

চুক্তি বাতিল করে প্রমাণ দিন আপনি আবরারের পক্ষে: প্রধানমন্ত্রীকে রিজভী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তির প্রতিবাদ করতে গিয়ে লাশ হতে হলো আবরারকে। চুক্তি বাতিল করে প্রমাণ দিন-আপনি আবরারের পক্ষে, ভারতের আবদারের পক্ষে নন।

বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন,গণমাধ্যমের কাছে জেনেছি আজ প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলন করে বক্তব্য দেবেন-জাতির সামনে বক্তব্য দেয়ার আগে সকল দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল করবেন কি না জানতে চাই।

তিনি বলেন, বুয়েটের মেধাবী ছাত্র শহীদ আবরার ফাহাদের বর্বরোচিত ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর যখন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাস বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ ও আধিপত্যবাদ বিরোধী গগনবিদারী স্লোগানে উত্তাল তখন সরকার ছাত্রদের নিরস্ত করার জন্য নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নিচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার প্রধান থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রীরা নানা রকম বক্তব্য দিচ্ছেন। যে কারণে আবরারকে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে সেদিক থেকে দৃষ্টি ফেরাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকার। মূলত দেশের মাটি, পানি, আকাশের স্বার্থে স্ট্যাটাস দেয়ায় বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আবরারের স্ট্যাটাস দেশবিরোধী চুক্তির বিরোধিতা ও সত্য ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছিল। আর দেশবিরোধী চুক্তিটি করেছেন বর্তমান সরকার জনগণের সাথে দিনে দুপুরে প্রতারণা করে। সুতরাং আবরার খুনের দায় সরকারও এড়াতে পারে না। দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল ছাড়া আবরারের আত্মা শান্তি পাবে না।

আবরার হত্যা প্রসঙ্গে রিজভী আরও বলেন, যার রুমে, যার উপস্থিতিতে আবরারকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয় সেই অমিত সাহার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এজাহারে তার নাম নেই, তাকে বহিষ্কারও করেনি ছাত্রলীগ। শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুম তথা টর্চার সেলটি অমিত সাহার। তাকে বাঁচাতে বুয়েট প্রশাসন ও বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। অথচ অধিকাংশ পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে আবরারকে মারার সময় অমিত সাহা সেখানে উপস্থিত ছিল এবং সে মারধরে অংশ নেয়। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর অন্যরা লাশ নিয়ে গেলেও অমিত সাহা তার রুমেই ছিল।

তিনি বলেন, ছাত্রদের দাবির সাথে আমরাও অবিলম্বে অমিত সাহাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ছাত্রদের প্রতিটি দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কবির মুরাদ, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান, সেলিমুজ্জামান সেলিম, আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মনির হোসেন প্রমুখ।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button