জাতীয়

টিসিবির লাইনে মধ্যবিত্তরাও, আয়-ব্যয়ে তাল মিলছে না অনেকের

বছরের শুরু থেকেই নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন। ঊর্ধ্বমুখী বাজারে টিকে থাকাই কঠিন সীমিত উপার্জনের মানুষের। এ অবস্থা সামাল দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ট্রাক সেলের পদক্ষেপ নিয়েছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ ক্রেতাদের দোরগোড়ায় যাচ্ছে টিসিবির ট্রাক।

নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র মানুষের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের এ ঊর্ধ্বমূল্যে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে মধ্যবিত্তরাও। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ে ব্যবধান বাড়ছে প্রতিনিয়ত। এরমধ্যে আসন্ন পবিত্র রমজান ঘিরে অন্যান্য বছরের মতো এবারও নিত্যপণ্যের বাজারে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে টিসিবির ট্রাক সেলের লাইনে দাঁড়াচ্ছেন মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরাও।

তবে চাহিদার তুলনায় ট্রাক সেলে পণ্যের যোগান কম হওয়ায় অনেকেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করেও খালি হাতে ঘরে ফিরছেন। বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

কদিন বাদেই শুরু হচ্ছে রোজার মাস। রোজা ঘিরে আগেভাগেই চোখ রাঙাচ্ছে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম। তবে সাধারণ ক্রেতাদের অনেকে টিসিবির তেল, ডাল, পেঁয়াজ, চিনির সঙ্গে রমজান মাস উপলক্ষে ছোলা ও খেজুর পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করছেন।

এদিকে টিসিবির ট্রাক সেলের বিক্রেতারা বলছেন, তাদের মজুত ও সরবরাহ পর্যাপ্ত আছে। পণ্যের মান ভালো হওয়ায় আর খোলা বাজারের তুলনায় দামে কিছুটা কম পাওয়ায় নগরবাসী টিসিবির পণ্যের দিকে ঝুকছে। অনেকেই পণ্য পেয়েও দ্বিতীয়-তৃতীয়বার লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। এ কারণে সাধারণ ক্রেতাদের কেউ কেউ পণ্য না পেয়ে ফিরছেন খালি হাতে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকায় টিসিবির ট্রাক সেলে পণ্য বিক্রি শুরুর আগেই দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। এসব লাইনে নিম্নবিত্তের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিও ছিলো চোখে পড়ার মতো। যাদের একটা বড় অংশই এসেছেন নিত্যপণ্যের সঙ্গে ছোলা ও খেজুর কিনতে।

টিসিবির পণ্য কিনতে আসা মঞ্জুরা বেগম নামের এক নারী জাগো নিউজকে জানান, আগের দিন লাইনে অপেক্ষা করেও তিনি তেল কিনতে পারেননি। আজ তেল, ডাল, পেঁয়াজ কিনতে আবারও এসেছেন। আগেভাগে আসায় আজ আর তাকে খালি হাতে ফিরতে হয়নি।

সহিদা বেগম নামের অপর নারী বলেন, ‘ছোলা আর খেজুর নিতে এসেছি। ডাল-তেল পেলেও নেবো। অনেকেই টিসিবির ট্রাক থেকে বেশি বেশি পণ্য কিনে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করে দেন। এ কারণে সাধারণ ক্রেতারা অনেক সময় পণ্য কিনতে পারেন না।

বিক্রেতা সজিব মাহদি বলেন, কে কতবার বা কখন এসে পণ্য কিনছেন সেটা তো আমরা দেখতে পারি না। কাউকে কাউকে বলি- আপনি একটু আগেই কেনাকাটা করে গেছেন। বলার সঙ্গে সঙ্গে ওই ক্রেতা অস্বীকার করেন। এতে অন্য ক্রেতারা হট্টগোল শুরু করেন। তখন চাহিদা মতো সবাইকে পণ্য দিতে সমস্যা হয়।

প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে মঙ্গলবার (২২ মার্চ) থেকে টিসিবির ট্রাকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় খেজুর বিক্রি শুরু হয়েছে। একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ ১ কেজি পর্যন্ত খেজুর কিনতে পারছেন। এছাড়া এখন টিসিবিতে প্রতি লিটার ১১০ টাকা দরে ২ লিটার সয়াবিন তেল, ৫৫ টাকা দরে ২ কেজি চিনি, ৬৫ টাকা দরে ২ কেজি মসুর ডাল, ৫০ টাকা দরে ৪ কেজি ছোলা এবং ৩০ টাকা দরে ৪ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীতে ১৩৭টি ট্রাক সেলের মাধ্যমে এসব পণ্য বিক্রি চলছে।

রাজধানীর বাইরে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে দুই কিস্তিতে ১ কোটি পরিবারের কাছে টিসিবির পণ্য বিক্রি হচ্ছে। প্রথম কিস্তি চলবে ২০-৩০ মার্চ এবং দ্বিতীয় কিস্তি চলবে ৩-২০ এপ্রিল পর্যন্ত।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button