জাতীয়

তাদের প্রতারণার যত কৌশল

প্রতারণায় নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে একশ্রেণির নারী। শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত নারীদের পাশাপাশি দরিদ্র নারীদেরও একটি অংশ নতুন কৌশলে নানা ধরনের অপরাধ ও প্রতারণায় জড়িয়ে পড়ছে। আগে পুরুষের মতো চুরি, ছিনতাই, অপহরণ ও মাদক কারবারে নারীদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলেও বর্তমানে নতুন কৌশলে মাঠে নেমেছে একশ্রেণির নারী। সম্প্রতি হেলেনা, ঈশিতা, পিয়াসা, মৌ ও একাসহ অর্ধশত নারীর অপরাধ ও প্রতারণার ঘটনায় নতুন কৌশল উঠে আসায় বিষয়টি এখন জনমনে আলোচনা-সমালোচনার তৈরি করছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি সময়ে সংঘটিত অপরাধগুলোর মধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি। স্বল্প সময়ে প্রতিষ্ঠা পেতে ও খ্যাতি অর্জনে একশ্রেণির নারীর মধ্যে অনৈতিক পন্থা অবলম্বনের প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীরা অপরাধ কর্মকাণ্ড করে তুলনামূলক নিরাপদ থাকার সুযোগে বিভিন্ন অপরাধে সম্পৃক্ত হচ্ছে। এ ছাড়া প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহারের সুযোগে নারীদের একটি অংশ নিত্যনতুন কৌশলে ব্ল্যাকমেইলিংসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সময়ের আলোকে জানান, প্রতারণা বা অপরাধের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের তুলনা বিবেচ্য নয়। তবে সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযানে এবং অনলাইন কেনাকাটা ও প্রতারণায় গ্রেফতারদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। মূলত সমাজে পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি বিশ্বাসযোগ্য হওয়ায় একরেশ্রণির নারী এ সুযোগটি কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করছে। তবে অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি জানান।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যম সূত্রে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হলেও জয়যাত্রা টেলিভিশনের আড়লে সাংবাদিক নিয়োগের নামে অর্থ আত্মসাৎ ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলে প্রতারণাসহ নানা অপরাধে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নানা ভুয়া ডিগ্রি ও পদ-পদবি ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার দায়ে চিকিৎসক ঈশিতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাসার গৃহকর্মীকে কুপিয়ে আহত ও মারধর করাসহ মাদক সেবনের দায়ে নায়িকা একা, নিজস্ব অপরাধ জগৎ তৈরি ও বিদেশে নারী পাচারের সম্পৃক্ততার দায়ে পাপিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। এ ছাড়া করোনা পরিস্থিতি শুরুর পর চিকিৎসা জালিয়াতির দায়ে ডা. সাবরিনাকে গ্রেফতার করা হয়।

সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া মডেল পিয়াসা ও মৌয়ের নানা অপরাধের ফিরিস্তি ভাসছে। নিজেদের বাসায় ছোট বারের মতো তৈরি করে বিদেশি মদ, ইয়াবা ও সিসার ব্যবস্থা করেছে। তাদের বাসায় সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তি ও তাদের সন্তাদের নিয়মিত আসা-যাওয়া ছিল। তাদের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক তৈরি করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সন্তানদের সঙ্গে পিয়াসার অন্তরঙ্গ ছবি ভাসতে দেখা গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন আসরে উচ্চবিত্ত ও ধনাঢ্য সন্তানদের সঙ্গে স্বল্প পোশাক পরিহিত অবস্থা নাচ-গানের ভিডিও দেখা গেছে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক অবক্ষয় এবং কোমল মানসিকতার সুযোগ নিয়ে নারীদের বিপথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরা সদস্যরা। রাজধানীর হাই সোসাইটির একশ্রেণির সুন্দরী নারীর পাশাপাশি মফস্বল এলাকা থেকে আসা সুন্দরী নারীদের একটি অংশের অপরাধ সম্পৃক্ততা বেশি পাওয়া গেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক সমাজ ও অপরাধ গবেষক তৌহিদুল হক সময়ের আলোকে বলেন, চলতি সময়ে আমরা যে অপরাধগুলো দেখছি তার মধ্যে নারীর সংখ্যায় বেশি। তুলনামূলক নিরাপদ হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে নারীরা বেশি অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ ছাড়া প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইলিং কিংবা মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরির সুযোগে নতুন কৌশলে অনেকে অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, অপরাধপ্রবণতার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ ব্যবধান নেই। দেশের প্রেক্ষাপটে অপরাধের আলাদা বৈচিত্র্য পায়। আমাদের দেশে অনেকটা পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থার কারণে সুযোগ পেলেই নারীরা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এক্ষেত্রে পরিবার ও সমাজ এগিয়ে এলে এবং পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করলে নারীদের অপরাধ সম্পৃক্ততা কমবে।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button