জাতীয়আইন-আদালতলিড নিউজ

নতুন সড়ক পরিবহন আইন: কয়েকটি ধারার পরিবর্তন চায় মালিক সমিতি

নতুন সড়ক পরিবহন আইনকে স্বাগত জানালেও আইনটির কয়েকটি ধারা সংশোধনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। পরিবহন নেতারা বলেন, আইনের ৮৪, ৯৮ ও ১০৫ ধারা অজামিনযোগ্য এবং আইনে জরিমানা ৫ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। এছাড়া আইন বাস্তবায়ন করার সময় কিছু সমস্যা উঠে আসতে পারে। এসব বিষয়ে সংশোধনী আনার প্রয়োজন রয়েছে।

শনিবার রাজধানীতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মালিক সমিতির নেতারা এসব কথা বলেন। তারা দ্রুত সড়ক আইনের সংশ্লিষ্ট বিধিমালাগুলো প্রণয়নের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা ও সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ। প্রসঙ্গত ১ নভেম্বর থেকে নতুন সড়ক আইন কার্যকর হয়েছে।

মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, সড়ক আইনের বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়নি। বিধিমালা ছাড়া এ আইন স্বয়ংসম্পূর্ণতা পাবে না। খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিধিমালা চূড়ান্ত করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এই আইনটি পাস হওয়ার পর আমরা কতিপয় ধারা সংশোধনের জন্য প্রস্তাব করেছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন তিন মন্ত্রীর সমন্বয়ে গঠিত কমিটি বৈঠক করে আমাদের কয়েকটি প্রস্তাবের যৌক্তিকতার সঙ্গে একমত পোষণ করেন এবং পরে পর্যালোচনার কথা বলেছেন।

নতুন আইন বাস্তবায়নে কাউকে হয়রানি না করার আহবান জানিয়ে মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মালিক-শ্রমিকরা যেন অকারণে হয়রানির শিকার না হয় এবং আইনের অপপ্রয়োগ না হয়, সেদিকে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে। দুর্ঘটনার মামলা যেন ৩০৪(খ) ধারার পরিবর্তে ৩০২ ধারায় দায়ের না করা হয়। তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় চালক কাউকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হত্যা করেছে, সেক্ষেত্রে ৩০৪(খ) ধারা ৩০২ ধারায় স্থানান্তর করলে আপত্তি নেই। তিনি বলেন, গাড়ির মালিকের সব কাগজপত্র এবং চালকের লাইসেন্স ঠিক থাকার পরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার জন্য মালিকদের বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়। এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে পরিবহন খাত অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

আইন সংশোধনের বিষয়ে মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, এই আইনের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন আছে। এ আইন মেনে চলতে আমরা পরিবহন মালিকদের আহ্বান জানাব। পাশাপাশি এ আইনের অনেকগুলো ধারা আছে, আমি মনে করি যেগুলো এই মুহূর্তে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। আইনের কিছু ধারা যেন সংশোধন করা হয়। আইনের কয়টি ধারা সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছেন- সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, আইনের জামিন অযোগ্য ধারাটিসহ তিন-চারটি ধারা সংশোধন করা প্রয়োজন বলে পরিবহন মালিকরা মনে করেন। শ্রমিকদের পক্ষ থেকেও প্রস্তাব আছে, নন বেইলেবল ধারাকে বেইলেবল করার জন্য।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, দুর্ঘটনার ধারা অজামিনযোগ্য। এভাবে জামিন অযোগ্য যদি হয়, দুর্ঘটনা ঘটলেই চালক যদি জেলখানায় চলে যায়। যদি জামিন না হয়, তাহলে চালকের সংকট আরও বাড়তে থাকবে। তখন কী পরিস্থিতি হবে? বর্তমানে ৭-৮ লাখ চালকের সংকট রয়েছে বলেও জানান তিনি।

গ্রিনলাইনসহ কয়েকটি গাড়ির দুর্ঘটনায় উচ্চ আদালতের রায় প্রসঙ্গে মালিক সমিতির মহাসচিব বলেন, কয়েকটি ঘটনায় মালিক-শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। যদি গাড়ির লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ঠিক থাকে, লাইসেন্সধারী চালক নিয়োগ দেয়, ওই গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটালে তার দায় মালিকের ওপর আসবে কেন? মালিক তো গাড়িতে ছিল না। এরপরও এমন সিদ্ধান্ত আসলে তা পরিবহন খাতের মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিঘ্ন ঘটে।

আতঙ্কে মালিক-শ্রমিকরা : এদিকে কয়েকজন মালিকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নতুন আইন কার্যকরের ঘটনায় মালিক ও শ্রমিকরা আতঙ্কে রয়েছেন। তারা মনে করছেন, এতে মোটা অঙ্কের টাকা জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। কঠোর এ বিধানের সুযোগ নিয়ে পুলিশ বেপরোয়া আচরণ করতে পারে। তারা বলেন, আইনটি যেদিন কার্যকর হয়েছে সেদিন সাপ্তাহিক বন্ধের দিন শুক্রবার থাকায় সড়কে গাড়ির কম উপস্থিতি তাই বোঝা যায়নি। রোববার থেকে তা দৃশ্যমান হতে পারে। এতে রাস্তায় গাড়ি কমে যাত্রী ভোগান্তি হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বলেন, রোববার পুলিশের পাশাপাশি হয়তো মোবাইল কোর্টও কাজ শুরু করবে। তখন দেখা যাবে, যেসব গাড়ি ও চালকের কাগজপত্র ঠিক নেই, তারা রাস্তায় নামবে না। এতে পরিবহন সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ৬ হাজারের বেশি বাস ও মিনিবাস চলাচলের অনুমতি দেয়া আছে। চলছে ৩ হাজার ৮শ’ থেকে ৪ হাজার গাড়ি। এর মধ্যে রুট পারমিট ও লাইসেন্সসহ অন্যান্য কাগজপত্র রয়েছে এমন গাড়ির সংখ্যা এক হাজারের কিছুটা বেশি। নতুন আইন কার্যকরের পর যেসব গাড়ির কাগজপত্র ঠিক আছে, সেগুলো চলবে। বাকিগুলো ভয়ে বন্ধ থাকবে।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল মালিক সমিতির সদস্য ও ঢাকা এক্সপ্রেসের মালিক দেলোয়ার হোসেন বলেন, নতুন আইন নিয়ে আমরা বিব্রত ও আতঙ্কিত। পরিবহন খাতে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অনিয়ম রয়েছে। হঠাৎ করে এসব সমস্যা দূর করা সম্ভব নয়। কিন্তু আইন প্রয়োগ শুরু হলে অনেক গাড়ি রাস্তায় নামতে পারবে না। এতে পরিবহন সংকট সৃষ্টি হবে এবং যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button