জাতীয়

বান্ধবী-সহকর্মীদের অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা করছেন দুর্নীতিবাজরা

দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত রাঘব-বোয়ালরা এখন অবৈধভাবে অর্জন করা সম্পদ পরিবারের সদস্য, স্বজনের পাশাপাশি জমা করছেন বন্ধু-বান্ধব ও সহকর্মীর নামে।  এই প্রবণতাকে বিপজ্জনক হিসেবে দেখছেন দুদক আইনজীবী।  আইনের চোখ ফাঁকি দিতে এমন অপকৌশল বন্ধে আয়কর বিভাগ, আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা ও দুদককে আরো তৎপর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ওয়ান-এলিভেনের সময় দুর্নীতির যে অর্ধশতাধিক মামলা হয়েছিল অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাশাপাশি স্ত্রী, মেয়েকেও আসামি করা হয়।  অনেক মামলাতে শাশুড়ি ও শ্বশুরকেও দাঁড় করানো হয় আদালতে কাঠগড়ায়।  আয়ের কোনো উৎস না থাকলেও তাদের অ্যাকাউন্টে মিলে কোটি কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য।

সময়ের পরিবর্তনে কৌশল বদলেছেন দুর্নীতিবাজরা।  দুদক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এখন তারা ব্যবহার করছেন অফিসের সহকর্মী, বান্ধবী কিংবা বিশ্বস্ত কাউকে।  কিনছেন বেনামী সংম্পত্তি।  উড়াচ্ছেন নগদ টাকা।

সাম্প্রতিক সময়ে সাবেক এমপির পাপুলের দুর্নীতির তদন্তে নেমে শ্যালিকার অ্যাকাউন্টে ১৪৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা পাওয়া কিংবা পিকে হালদারের বান্ধবী অবন্তিকা বড়াল, নাহিদা রুনাই ও শুভ্রা রাণী ঘোষের নামে মিলেছে কোটি কোটি টাকার অনিয়মের তথ্য।  অভিযোগ রয়েছে- তাদের পেছনে দুর্নীতির কাড়ি-কাড়ি টাকা ঢেলেছেন পিকে হালদার।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) খুরশীদ আলম খান বলেন, দুর্নীতির এই ধরন দিন দিন বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।  এখন তারা ব্যবহার করছেন অফিসের সহকর্মী, বান্ধবী কিংবা বিশ্বস্ত কাউকে।  কিনছেন বেনামী সংম্পত্তি।  উড়াচ্ছেন নগদ টাকা।

দুর্নীতিবাজদের অপকৌশল বন্ধে আয়কর বিভাগ ও আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থাকে আরো তৎপর হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক পরিচালক (আইন শাখা) মইদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন ব্যাংক ও ফিন্যান্সিয়াল যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাদের রিপোর্টগুলো ঠিকভাবে হচ্ছে কি-না সেগুলোর দিকে নজর দেয়া জরুরি।

এ ছাড়া দুর্নীতির ধরন পরিবর্তন হওয়ায় অপরাধী ধরতে দুদককে আরো কৌশলী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button