বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ডিজিটাল রূপান্তরের ২৫ বছর

এন্টারপ্রাইজ লিনাক্স ও নেটওয়ার্কিং থেকে জেনারেটিভ এআই-এর ট্র্যাকে তৌহিদ সুমন

প্রযুক্তি ডেস্ক: বর্তমান বিশ্ব যখন জেনারেটিভ এআই, সাইবার নিরাপত্তা এবং ক্লাউড কম্পিউটেশনের নতুন দিগন্তে প্রবেশ করছে, তখন বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আড়ালে থেকে এন্টারপ্রাইজ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও নেটওয়ার্কিংয়ের মূল ব্যাকবোন গড়ে তুলছেন যে কজন প্রযুক্তিবিদ, তাদের মধ্যে অন্যতম আজাদ তৌহিদুর রহমান সুমন। ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে লিনাক্স এন্টারপ্রাইজ সিস্টেম, সিসকো কোর রাউটিং এবং গ্লোবাল ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স নিয়ে কাজ করা এই দূরদর্শী টেকনোলজি স্পেশালিস্ট একাধারে একজন দক্ষ সিস্টেম আর্কিটেক্ট, আইটি লিডার এবং ডিজিটাল প্রকাশনা বিশেষজ্ঞ।
🏛️ শিক্ষা ও ক্যারিয়ারের শুরু
ঢাকার নামকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিজ্ঞান বিভাগে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে পরবর্তীতে ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশুনা শেষ করেন তৌহিদ সুমন। সাহিত্যের ছাত্র হলেও প্রযুক্তির প্রতি তীব্র আকর্ষণ থেকে ২০০০ সালের শুরুতে অ্যাপটেক (APTECH) কম্পিউটার এডুকেশন থেকে ‘ডিপ্লোমা ইন ইনফরমেশন অ্যান্ড সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট সম্পন্ন করে আনুষ্ঠানিকভাবে আইটি সেক্টরে পা রাখেন তিনি। তাঁর কর্মজীবনের প্রথম শুরু হয় ২০০০ সালে টেকনোসফট (Technosoft Pvt. Ltd.)-এ সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ও ফ্যাকাল্টি মেম্বার হিসেবে।
🚀 এন্টারপ্রাইজ আইটি ও সিসকো নেটওয়ার্কিংয়ে মেগা লিগ্যাসি
বিগত আড়াই দশকে তৌহিদ সুমন বাংলাদেশের বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও আইএসপি খাতের টেকনিক্যাল আর্কিটেকচারকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এইচআরসি টেকনোলজিস এসকে নেটওয়ার্কস সহ আরও নামকরা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন জুড়ে বিস্তৃত ফাইবার-অপ্টিক ব্যাকবোন নেটওয়ার্ক ইনফ্রাস্ট্রাকচার অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালনা করেন।
তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় মাইলফলক অর্জিত হয় যখন তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান টিএমএসএস এর আইটি ও এমআইএস (MIS) নেটওয়ার্ক সাপোর্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব নেন। সেখানে তিনি ৩,০০০-এরও বেশি প্রাতিষ্ঠানিক শাখা এবং ৩০,০০০-এর বেশি এন্ড-ইউজার সামলানোর এক বিশাল এন্টারপ্রাইজ স্টোরেজ ও নেটওয়ার্ক ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডিজাইন ও মেইনটেইন করেন, যা দেশের ক্ষুদ্রঋণ ও প্রযুক্তিখাতে একটি সফল মডেল হিসেবে বিবেচিত।
🧠 জেনারেটিভ এআই ও আধুনিক অটোমেশন
প্রযুক্তির সর্বশেষ পরিবর্তনের সাথে নিজেকে সবসময় এক ধাপ এগিয়ে রাখা তৌহিদ সুমন বর্তমানে একটি স্বনামধন্য প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে সিস্টেম ও আইটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার স্পেশালিস্ট হিসেবে কর্মরত। বর্তমানে তিনি ওপেন-ওয়েবইউআই ব্যবহার করে লোকাল ডোমেইনে ডিপসিকের মতো শক্তিশালী লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) ডেপ্লয়মেন্ট এবং প্রোডাকশন লোডে জেনারেটিভ এআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইন্টিগ্রেশনের কাজ অত্যন্ত সফলভাবে পরিচালনা করছেন। একই সাথে পাইথন ও শেল স্ক্রিপ্টিং অটোমেশনের মাধ্যমে ক্লাউড সার্ভার কন্ট্রোল ও টেলিমোন্ট্রি ওয়ার্কফ্লো তৈরিতে তিনি একজন প্রথম সারির বিশেষজ্ঞ।
📰 ডিজিটাল সাংবাদিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা
প্রযুক্তি প্রকৌশলের পাশাপাশি মিডিয়া ও গণযোগাযোগ মাধ্যমেও তৌহিদ সুমনের অবদান দীর্ঘ এক দশকের। ২০১৩ সাল থেকে ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্র ‘দৈনিক সংবাদ কণিকা’ (Daily Sangbad Konika)-র অ্যাসোসিয়েট এডিটর এবং আইটি সাপোর্ট লিড হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। সম্পূর্ণ নিজস্ব কারিগরি দক্ষতায় তিনি পত্রিকাটির অনলাইন মিডিয়া পোর্টাল এবং রেসপন্সিভ ই-পেপার (E-Paper) প্ল্যাটফর্ম ডিজাইন, ডেভেলপ ও মেইনটেইন করে আসছেন। হাই-ট্রাফিক সার্ভার হোস্টিং, ডাটাবেস টিউনিং এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তিনি এই পোর্টালে উদীয়মান ও জটিল প্রযুক্তিগুলোকে সহজ ভাষায় সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে নিয়মিত কলাম ও ফিচার লিখেছেন।
পেশাগত কাজের বাইরেও ১৯৯৬ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বগুড়া ফাউন্ডেশনের ভলান্টিয়ার আইটি সাপোর্ট ও হিউম্যানিটেরিয়ান কোঅর্ডিনেটর হিসেবে দেশের ভয়াবহ বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে খাদ্য সামগ্রী ও ত্রাণ বিতরণ, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা এবং সুবিধাবঞ্চিত নারীদের আইনি সহায়তা কার্যক্রমে তিনি সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে কাজ করেছেন।
🌍 আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
গ্লোবাল ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরাম APNIC, bdNOG এবং SANOG থেকে অ্যাডভান্সড এমপিএলএস ডিজাইন, ডোমেইন সিকিউরিটি  এবং সাইবার ফরেনসিক্সে উচ্চতর আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশনপ্রাপ্ত এই প্রযুক্তিবিদ বর্তমানে বৈশ্বিক আইটি ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া সেক্টরে তাঁর এই বহুমুখী দক্ষতাকে ডেপ্লয় করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। প্রযুক্তিগত কাঠামোর উন্নয়ন, সাইবার স্থিতিস্থাপকতা (Digital Resilience) এবং সমাজের ওপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব নিয়ে বিশ্বমঞ্চে কাজ করতে তিনি শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button