বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

৫ বছরে ডিজিটাল খাতে দশ লক্ষাধিক কর্মসংস্থান চায় সরকার

আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল খাতে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এ জন্য নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশ টেককানেক্ট ২০২৬’ সম্মেলনে এ কথা বলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং হুয়াওয়ের যৌথ আয়োজনে সম্মেলনে পাঁচ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা।

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সম্মেলনে সংযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, একটি সমৃদ্ধ ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল অবকাঠামো প্রয়োজন। বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের উন্নয়নে হুয়াওয়ের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব মোঃ মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, ডিজিটাল রূপান্তরে সরকার পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে। এগুলো হলো শক্তিশালী আইনি ও নীতিগত কাঠামো, নির্ভরযোগ্য সংযোগ, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সাইবার নিরাপত্তা এবং দেশীয় উৎপাদন।

তিনি জানান, জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এটি সম্পন্ন করার আশা করছে সরকার।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. কামরুজ্জামান বলেন, ডিজিটাল অবকাঠামো এখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি। সরকার, শিল্পখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগে দেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল করা সম্ভব।

হুয়াওয়ে দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট জেসন উ বলেন, সংযোগ, ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন সেবা উদ্ভাবনে বাংলাদেশের সরকার ও শিল্পখাতের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে চায় হুয়াওয়ে।

সম্মেলনে ফাইভজি ও সংযোগব্যবস্থা, শিল্পখাতে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বাংলাদেশের প্রস্তুতি নিয়ে তিনটি প্যানেল আলোচনা হয়।

আলোচনায় তৈরি পোশাকশিল্প, বন্দর, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় ফাইভজি, ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাকসেস এবং এন্টারপ্রাইজ সংযোগের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পরিচালন ব্যয় কমানো এবং সরকারি সেবার মান উন্নয়নে ক্লাউড কম্পিউটিং, অটোমেশন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

সম্মেলনে ডিজিটাল রূপান্তর, স্মার্ট গভর্নমেন্ট, স্মার্ট শিক্ষা, ডিজিটাল বিদ্যুৎব্যবস্থা ও এআইভিত্তিক প্রযুক্তির প্রদর্শনী হয়। ডিজিটাল প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও এআই নিয়ে উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকেও বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button