লিড নিউজজাতীয়দুর্যোগ

গুলিস্তানের হকার থেকে ‘ক্যাসিনো গুরু’ আরমান

অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আরমান।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে রবিবার ভোর ৫টার দিকে তাদেরকে গ্রেফতার র‌্যাব-১ এর একটি বিশেষ দল।

যেভাবে গুলিস্তানের হকার থেকে ‘ক্যাসিনো গুরু’ আরমানসম্রাটের এই সহযোগীর পুরো নাম এনামুল হক আরমান। ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি। বাড়ি নোয়াখালীতে। ক্যাসিনো কারবারে এই আরমানকে গুরু বলে মানেন সম্রাট।

আরমানের উত্থান ঘটে রাজধানীর গুলিস্তানের বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে। পাকিস্তান ও সিঙ্গাপুর থেকে লাগেজসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য এনে বায়তুল মোকাররমে বিক্রি করতেন।

আরমান একসময় সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় লাগেজ আনার ব্যবসা করতেন। সে সুবাদে সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনোর সঙ্গে পরিচয় ঘটে আরমানের। পরবর্তী সময়ে সম্রাটকে এই লাভজনক কারবারের ধারণা দেন তিনি। সম্রাটঘনিষ্ঠ যুবলীগের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আরমান নিজের টাকা দিয়ে প্রথমে ক্যাসিনোর সরঞ্জাম কিনে আনেন ঢাকায়।

আরমান একসময় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিকটাত্মীয় ‘বাউন্ডারি ইকবাল’ হিসেবে পরিচিত ইকবাল হোসেনের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন। ইকবালের যাতায়াত ছিল হাওয়া ভবনে। তার মাধ্যমে আরমানও হাওয়া ভবনঘনিষ্ঠ হন। শামিল হন বিএনপির রাজনীতিতে। পদ-পদবি না থাকলেও হাওয়া ভবনঘনিষ্ঠ বলে মতিঝিল ক্লাবপাড়ায় প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন তিনি। বিএনপি আমলেই আরমান ফকিরাপুলের কয়েকটি ক্লাবের জুয়ার আসর নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন।

বিএনপি ক্ষমতাচ্যুত হলে যুবলীগের মিছিলে হাজির হতে শুরু করেন আরমান। ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন সম্রাটের। সম্রাট ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি হলে সহ-সভাপতি করা হয় আরমানকে।

সম্রাটের ক্যাসিনোর টাকার সংগ্রাহক তথা ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত আরমান। মূলত তার মাধ্যমেই ক্যাসিনোজগতে প্রবেশ ঘটে সম্রাটের। ক্যাসিনো কারবারে আরমানকে গুরু বলে মানেন সম্রাট।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button