সারাদেশ

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্ত্রীকে জবাই, স্বামী গ্রেফতার

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী নূরজাহান বেগমকে (৪৩) ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যা করেছেন স্বামী মো. শাহীন আলম। এ ঘটনায় শাহীন আলমকে গ্রেফতারসহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নিহত নূরজাহান বেগম জেলার দুঁপচাচিয়া উপজেলার পোথাট্টি গ্রামের মৃত সাবাজ সাকিদারের মেয়ে।

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার শাকপালা দিঘীরপাড় গ্রামে তাদের ভাড়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) নিহতের মা আছুবা বেওয়া শাজাহানপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

অভিযুক্ত শাহীন আলম ওরফে সুমন বগুড়া সদর উপজেলার কদিমপাড়া গ্রামের মৃত দৌলত জামানের ছেলে ও নিহত নূরজাহান বেগমের তৃতীয় স্বামী।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

শাজাহানপুর থানার ওসি মো. আজিম উদ্দীন জানান, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অভিযুক্ত শাহীন আলম তার আগের স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে গত ২২ আগস্ট নূরজাহান বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের ১১ দিনের মাথায় শাহীন আলম তার স্ত্রীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যা করেন। পরে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে শাহীন আলমকে বগুড়া থানার পাশ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

নিহত গৃহবধূর ছেলে লিটন জানান, শাহীন আলম তার মায়ের তৃতীয় স্বামী। তার বাবা ইনসেন আলীর সঙ্গে নূরজাহান বেগমের প্রায় ২০ বছর পূর্বে ডিভোর্স হয়। এরপর তার মা শিবগঞ্জ উপজেলার লড়িয়াল গ্রামের মজিবর রহমানকে বিয়ে করেন। সেখানে প্রায় আট বছর সংসার করেন তার মা। পরে মজিবর রহমান মারা গেলে তার মা বগুড়া ইসলামপুর হাসান জুটমিলে শ্রমিক হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে কর্মরত অবস্থায় শাহীন আলমের সঙ্গে বিয়ে হয় তার মা নূরজাহান বেগমের।

এ দিকে, শাকপালা দিঘীরপাড় গ্রামের ওই ভাড়া বাড়ির মালিক আবদুস সাত্তার জানান, সপ্তাহখানেক পূর্বেই তার বাড়ি ভাড়া নিয়েছিলেন মো. শাহীন আলম।

গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, মঙ্গলবার রাতে রক্তমাখা অবস্থায় শাহীনকে সদর থানার পাশ থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়।

এ ব্যাপারে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঁইয়া (বার) জানান, ‘আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি পারিবারিক কলহের জেরে নূরজাহান বেগমকে হত্যা করা হয়েছে। তদন্তে পুরো ঘটনা জানা যাবে। এছাড়া শাহীন আলমকে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে চেয়ে হত্যার নেপথ্যের কারণ জানার চেষ্টা করব।’

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button