চট্টগ্রাম বিভাগ

মিরসরাইয়ে বাড়ির পথ বন্ধ করে জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: কোন প্রকার নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বাড়ি নির্মাণ করায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন চট্টগ্রামের মিরসরাই পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কয়েকটি পরিবার। চলাচলের রাস্তা দখল করে বাড়িতে প্রবেশের পথ আটকে ঘর নির্মাণ করায় যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে ওই পরিবারগুলোর। ভবন নির্মানের ক্ষেত্রে মানা হচ্ছেনা ইমারত নির্মাণ আইন ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানিয়েও কোন সুরাহা পায়নি ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

জানা গেছে, মিরসরাই পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড পূর্ব মিরসরাই এলাকার জনৈক হাজী শাহ আলম কিছুদিন আগে বহুতল ভবন নির্মান শুরু করেন। এসময় তিনি পার্শ্ববর্তী মরিয়ম আক্তার, সুলতান আহম্মদ ও রহিমা বেগমের দীর্ঘ ২৫ বছরের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি জোরপূর্বক গভীর গর্ত খুড়ে এবং টিনের ঘেরা দিয়ে রুদ্ধ করে দেন। এতে ১০টি পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথ বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করলেও প্রভাবশালী হাজী শাহ আলম কর্নপাত না করে নির্মান কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। উপরন্তু তিনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ভাবে প্রভাব বিস্তার করে কাজ করে যাচ্ছেন।

বর্তমানে বাড়িতে প্রবেশের পথ একেবারেই বন্ধ করে দেয়ায় দৈনন্দিন কাজ কর্মের জন্য ঘর থেকে বের হওয়া এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল আনা নেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা দূর্ঘটনার ঘটনা ঘটলে তা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা গ্রহণ বা কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য তাকে বের করে আনারও কোনো রাস্তা নেই।
ইমারত নির্মান বিধিমালার (৮.১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘ইমারতের সাইট সংলগ্ন অথবা সাইটের সহিত সংযোগকারী অন্যূন ৩.৬৫ মিটার প্রশস্ত রাস্তা থাকিতে হইবে; তবে ব্যক্তি মালিকানাধীন রাস্তার ক্ষেত্রে অন্যূন ৩.০০মিটার প্রশস্ত রাস্তা হইতে হইবে।’ অথচ নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে ওই পথে প্রতিবেশীদের চলাচলের বিষয়টি আমলে রাখেনি পৌর কর্তৃপক্ষ। তোয়াক্কা করেননি ইমারত নির্মান বিধিমালাও। এতে বিপাকে পড়েছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

অভিযোগের বিষয়ে হাজী শাহ আলম জানান, আমার মালিকানাধীন জায়গায় আমি ঘর করছি। এখানে কারো হাটা চলার রাস্তা নেই। কাজের সুবিধার্থে পথ টিনের ঘেরা দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি।
মিরসরাই পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাখের ইসলাম রাজু জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য আমি হাজী শাহ আলমের সাথে প্রতিবেশীদের পক্ষে বৈঠকে বসেছিলাম। কিন্তু শাহ আলমের অনড় অবস্থানের কারনে মিমাংসা করা যায় নি।

এ বিষয়ে মিরসরাই পৌর মেয়র এম.গিয়াউদ্দিন জানান, ভবন নির্মানের জন্য হাজী শাহ আলম অনুমতি চাইলে প্রতিবেশী পরিবার গুলোকে ডাকা হয়েছিলো তখন তারা আসেনি। এখন নকশা অনুমোদন দিয়ে দেয়ার পর তারা রাস্তার জন্য অভিযোগ করছেন। তিন ফুট জায়গা ছেড়ে ভবন নির্মানের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

নকশা অনুমোদনে ইমারত বিধিমালায় তিন মিটার জায়গা ছাড়ার কথা বলা থাকলেও মানা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে পৌর মেয়র কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি।

এই বিষয়ে মিরসরাই থানার জৈষ্ঠ উপপরিদর্শক আমিরুল মুজাহিদ বলেন, রবিবার দুপুরে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ভবন নির্মাণ কাজ স্থগিত করেছি। সোমবার বিকেলে বিষয়টি মিমাংসার জন্য উভয় পক্ষকে নোটিশ করা হয়েছে।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Back to top button