খেলা

আমাদেরও আছে একজন

জোফরা আরচারের মতো স্পিড স্টার নেই আমাদের। নেই আন্দ্রে রাসেলের মতো অলরাউন্ডার। কায়রন পোলার্ডের মতো পাওয়ার হিটার কিংবা রশিদ খানের মতো লেগ স্পিনারও আমরা তৈরি করতে পারিনি। এই ‘নেই’য়ের তালিকাটা চাইলেই আরও দীর্ঘ করা যায়। তারপরও আমরা এই ভেবে গর্ব করতে পারি যে আমাদেরও আছে একজন মোস্তাফিজ। ক্রিকেট দুনিয়ার সমীহ জাগানো দলগুলো, ভুবন মাতানো ব্যাটসম্যানরা যাকে নিয়ে ভাবতে বাধ্য হন। আলাদা করে তার বোলিং ব্যবচ্ছেদ করেন। মোস্তাফিজের কাটার-স্লোয়ারের বিভ্রান্তি থেকে মুক্তি পেতে বাড়তি অনুশীলনে মনোযোগী হন।
ক্রিকেটের ইতিহাস-ঐতিহ্য অনেক পুরনো। টেস্ট ক্রিকেটের বয়স দেড়শ বছরের (১৪৪ বছর) কাছাকাছি। সুদীর্ঘ পথচলায় এসেছে অনেক জাদুকরি মুহূর্ত। নতুনত্ব, অভিনবত্ব কিংবা নান্দনিকতার পসরা সাজানোর সংখ্যাটা গণনারও অতীত। তারপরও কিছু কিছু দক্ষতা কারও কারও নামের সঙ্গে হয়ে যায় ব্র্যান্ড। যেমন ওয়াসিম আকরামের ইনসুইং-ইয়র্কার, ওয়াকার ইউনুসের বাতাসে বাঁক খাওয়ানো, শেন ওয়ার্নের ফ্লিপার, সাকলাইন মুশতাক-মুত্তিয়া মুরালিধরনের দুসরা। কাটার-স্লোয়ার শব্দগুলো ক্রিকেটের পরিচিত অনুষঙ্গ। তারপরও এই কাটার-স্লোয়ার শব্দযুগলকে অনেকটাই নিজস্ব সম্পদ বানিয়ে ফেলেছেন মোস্তাফিজুর রহমান।
মিরপুরের বাইশ গজীয় বৃত্তে যত দ্বিগ্বীজয়ী দলই খেলুক না কেন, টাইগারদের মুখোমুখি হওয়া মানেই যেন এক অলিখিত হুমকি। কেননা অবধারিতভাবেই মোস্তাফিজের স্লোয়ার-কাটারের ধাঁধার মুখে পড়া। বর্তমানে সফররত অস্ট্রেলিয়ার কথাই ধরা যাক না! তৃতীয় ম্যাচের আগের দিন অজি মিডলঅর্ডার ময়েজেস হেনরিকস বললেন, ‘আমার মনে হয় সে (মোস্তাফিজ) ২৩ কিংবা ২৪টিই স্লোয়ার মারছে। ভালো উইকেটেও তার স্লোয়ার খেলা কঠিন। এ রকম উইকেটে যে আরও কঠিন।’ ২০১৬ সালে মোস্তাফিজের প্রথম আইপিএলে তার হায়দরাবাদ সতীর্থ ছিলেন হেনরিকস। কাটার মাস্টারকে নিয়ে অ্যাসটন অ্যাগারটন দ্বিতীয় ম্যাচে তার আউট হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘সে একজন অবিশ^াস্য বোলার। ওই স্লো বলটা করার যে সামর্থ্য তার, তা চোখধাঁধানো। আমি যেভাবে আউট হলাম, সেটা লাফিয়ে উঠেছিল। কখনও এই বলটাই নিচু হয়ে আসবে। বাঁক খাবে। একেক সময় একেক রকম আচরণ করবে।’
শনিবার মোস্তাফিজ জাদুতেই পথ হারাল অস্ট্রেলিয়া। কোনো উইকেট পাননি এই কাটার মাস্টার। তারপরও নায়ক তিনিই। সিরিজ হার এড়ানোর জন্য সফরকারীদের প্রয়োজন ছিল ২৪ বলে ৩৮ রান। হাতে সাত সাতটি উইকেট। এই সহজ সমীকরণকে জটিল করে দিলেন মোস্তাফিজ। ওভার থেকে জমা পড়ল মোটে ৪ রান। বল-রানের পার্থক্য বেড়ে গেল। পরের ওভারে ১১ রান তুলে নিয়ে সম্ভাবনা ধরে রাখল অজিরা। ১৯তম ওভারে আক্রমণে এলেন মোস্তাফিজ। ম্যাচ জিততে তাদের প্রয়োজন ১২ বলে ২৩ রান। হাতে ৬ উইকেট। জয়ের সুঘ্রাণ পাওয়া অজিদের কি মোস্তাফিজ থামাতে পারবেন, বড় হয়ে উঠল এ প্রশ্নটাই। কিন্তু তিনি যে মোস্তাফিজ! ৬ বল থেকে মাত্র ১ রান নিতে পারল তারা।
বাংলাদেশের জয়টা পরিণত হলো সময়ের ব্যাপারে। শেষ ৬ বলে ২২ রান সংগ্রহের কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়ল অস্ট্রেলিয়া। ব্যাটসম্যানদের জন্য দুরূহ উইকেটে এই সমীকরণ মেলানো সম্ভব ছিল না। বাস্তবে ঘটলও সেটাই। ১০ রানে জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিল টিম টাইগার্স। ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বললেন সবার মনের কথাটিই, ‘মোস্তাফিজের এই স্পেল ৫ উইকেট পাওয়ার চেয়ে কম কিছু ছিল না।’ মোস্তাফিজ আছেন, এর চেয়ে বড় নির্ভরতা যে আর হয় না।
আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button