
শান্তি ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে ভ্যাটিকানের সম্মানজনক ‘ল্যাম্প অব পিস’ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) ইউনূস সেন্টার থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইতালির আসিসি শহরে অবস্থিত ‘ব্যাসিলিকা অব সেইন্ট ফ্রান্সিস’- জাঁকজমকপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ইউনূসের হাতে এ সম্মাননা পুরস্কার তুলে দেয়।
ইউনূস সেন্টার থেকে প্রেরিত ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভ্যাটিকানের পক্ষ থেকে শান্তি ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য অধ্যাপক ইউনূসের হাতে ‘ল্যাম্প অব পিস’ তুলে দেন হোলি কনভেন্ট এবং প্যাপাল বাসিলিকা অব আসিসির মাস্টার ফাদার মওরো গামবেত্তি।
উল্লেখ্য, ‘ল্যাম্প অব পিস’ পুরস্কারটি ফ্রান্সিসকান সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা সেইন্ট ফ্রান্সিস অব আসিসির সমাধির পাশে প্রজ্বলিত একটি কাঁচের তেল প্রদীপের অবিকল প্রতিরূপ।
‘দ্য হোলি কনভেন্ট অব প্যাপাল ব্যাসিলিকা অব আসিসির মুখপাত্র ও যোগাযোগ বিষয়ক পরিচালক ফাদার এনজো ফরতুনাতো গত ২৮ জুন থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত নবম সামাজিক ব্যবসা দিবসের উদ্বোধনীতে পোপ ফ্রান্সিসের প্রতিনিধি হিসেবে এ পুরস্কারের জন্য ঘোষণা করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম।
এ দিকে, সম্প্রতি জার্মানির প্রেসিডেন্ট অ্যাঙ্গেলা মের্কেল ও জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ্ও একই পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। তবে, প্রেসিডেন্ট অ্যাঙ্গেলা মের্কেলকে এ পুরস্কার দেওয়া হয় মানুষে-মানুষে সংহতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার জন্য। আর জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহকে মানবাধিকার, আন্তঃধর্ম সংলাপ ও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের পাশাপাশি সংঘাতপূর্ণ সিরিয়া থেকে দেশত্যাগকারী শরণার্থীদের জর্ডানে আশ্রয় দেওয়ার জন্য ‘ল্যাম্প অব পিস’ পুরস্কার দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৮১ সালে পোলান্ডের বিখ্যাত ট্রেড ইউনিয়ন নেতা লেস ওয়ালেসাকে প্রথমবারের মতো ‘ল্যাম্প অব পিস’ পুরস্কার দেওয়া হয়। কোলকাতার সেন্ট মাদাম তেরেসা, পোপ দ্বিতীয় জন পল, দালাই লামা এবং রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মিখাইল গর্বাচেভকেও ইতিপূর্বে একই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কলম্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোসকে দেশের গৃহযুদ্ধ বন্ধে অবদানের জন্য ২০১৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পাশাপাশি দেওয়া হয় ‘ল্যাম্প অব পিস’ পুরস্কার।



