রাজশাহী বিভাগশিক্ষাঙ্গন

বগুড়ায় প্রাথমিকে প্রায় শতভাগ বই পাওয়া গেলেও মাধ্যমিকের ৫০ ভাগ পাওয়া গেছে

বগুড়ায় প্রাথমিক শাখার বই প্রায় শতভাগ পাওয়া গেলেও মাধ্যমিক, দাখিল, এবতেদায়ী ও এসএসসি ভকেশনাল বিভাগের সব বই বরাদ্ধ পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে দাখিল ভকেশনাল, ট্রেড ও ইংলিশ ভার্সন‘র কোন বই বরাদ্ধ আসেনি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১ জানুয়ারি বই উৎসবে বগুড়ার সরকারি ১৬ শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌছুলেও বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখার শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছাতে আরও কিছু দিন সময় লাগবে। পাশাপাশি অন্য ১১ টি উপজেলার মত কাহালু উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী বই উৎসবের দিন সব বই পাচ্ছেন না।
সরকার বেশ কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই বিতরণ করে আসছে। বছরের প্রথম দিনই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের নিরন্তন প্রচেষ্টায় এবছরও বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিতে সরকার বদ্ধ পরিকর।
বগুড়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে ২০২২ শিক্ষাবর্ষে বগুড়ার ১৬০১ টি সরকারি এবং  প্রায় ৫ শতাধিক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখা রয়েছে। সব মিলিয়ে এবছর মোট বই য়ের চাহিদা রয়েছে ২০ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪ টি। এর মধ্যে গতকাল বুধবার পর্যন্ত বরাদ্ধ পাওয়া গেছে ১৯ লাখ ৬৮ হাজার ৫৬৪ টি। যা মোট চাহিদার ৯৮ দশমিক ২৭ ভাগ। জেলার অন্য সবন উপজেলায় চাহিদা অনুযায়ী প্রাথমিক শাখার বই বরাদ্ধ দেওয়া হলেও কাহালু উপজেলায় সব বই পৌছেনি। এই উপজেলায় প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সব বই পাওয়া হেলেও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বই পাওয়া যায়নি। কাহালুকে তৃতীয় শ্রেণির জন্য ২৪ হাজার ৯শ চতুর্থ শ্রেণির ২৪ হাজার ৬শ এবং পঞ্চম শ্রেণির ২১ হাজার বইয়ের চাহিদার প্রেক্ষিতে কোন বই পাওয়া যায়নি। এদিকে প্রাক প্রাথমিকের জন্য জেলায় ৭৮ হাজার৫২৮টি বইয়ের চাহিদার প্রেক্ষিতে সব বই বরাদ্ধ পাওয়া গেলেও অনুশীলন খাতা পাওয়া যায়নি।
এদিকে জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে  বগুড়ায় মাধ্যমিক শাখায় বইয়ের চাহিদা রয়েছে ৩৬ লাখ ১ হাজার ৯৮৮ টি। এর মধ্যে বরাদ্ধ পাওয়া গেছে ১৮ লাখ ৯ হাজার ৪৮৩ টি। যা মোট চাহিদা ৫০ ভাগ। এর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে ১৬ লাখ ৮২ হাজার ৫৮টি। দাখিল বিভাগে বই  প্রয়োজন ১০ লাখ ৫০ হাজার ৬৪৯ টি। চাহিদার বিপরীতে বই পাওয়া গেছে ৯ লাখ ৩৯ হাজার ৪১৯ টি যা চাহিদার ৮৯ শতাংশ এবং বিতরণ করা হয়েছে ৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৩০টি। এবতেদায়ী শাখায় বইয়ের চাহিদা ৭ লাখ ৬ হাজার ৩৬৫ টি। এর মধ্যে বরাদ্ধ পাওয়া গেছে ৪ লাখ ৪৯ হাজার১৬ টি যা চাহিদার ৬৪ শতাংশ এবং বিতরণ করা হয়েছে ৪ লাখ ২০হাজার ৮শ টি। এসএসসি ভকেশনালে চাহিদা ১ লাখ ৩ হাজার ৬২৪ টি। বই পাওয়া গেছে ৪৪ হাজার ৪১৭ টি যা চাহিদার ৪৩ শতাংশ। দাখিল ভকেশনাল, ট্রেড ও ইংলিশ ভার্সন‘র কোন বই এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছাঃ তহমিনা খাতুন জানান, এবার আনুষ্ঠানিক ভাবে বই বিতরনের তোন সিদ্ধান্ত গতকাল পর্যন্ত হয়নি। তিনি আরও জানান, কাহালুতে যে পরিমান বই এখনো পাওয়া যায়নি তা নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে যাওয়া যাবে বলে আশা করেন।
অন্যদিকে জেলা শিক্ষা অফিসার রমজান আলী আকন্দ জানান, বই যা পাওয়া গেছে তা স্কুলে স্কুলে বিতরণ করা হয়েছে। যে গৃুলো এখনো হাতে পাওয়া যায়নি তা হাতে পেলেই বিতরণ করা হবে। বাকী বই পেতে দেরি হবে না।

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button