আরও

মন্ত্রীরা নিজেরাও চমকে উঠলেন, দেশবাসী তো বটেই

পত্রিকাগুলোয় পাঁচ বছরে মন্ত্রীদের, নেতাদের সম্পদ ফুলে-ফেঁপে উঠার পিলে চমকানো সব তথ্য বেরোতে লাগলো। না, এগুলো পত্রিকার কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নয়। মন্ত্রীরা, নেতারা নিজেরা তাদের যে সম্পদের ঘোষণা দিয়েছেন তাই। নিজেদের ঘোষিত সম্পদের বিবরণ দেখে নেতা, মন্ত্রীরা নিজেরাও চমকে উঠলেন, দেশবাসী তো বটেই।

ঘটনাটা গত নির্বাচনের সময়কার। প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনে নিজের সহায় সম্পত্তির যে বিবরণ প্রার্থীরা জমা দিয়েছেন, সেগুলোই নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করেছিল পত্রিকাগুলো। তারা শুধু একটু বাড়তি কাজ করেছিল। আগের নির্বাচনের সময় হলফনামা হিসেবে জমা দেয়া বিবরণীটাও ওয়েবসাইট থেকে নামিয়ে নিয়েছিল। দুটোই মন্ত্রীদের, নেতাদের নিজেদের তৈরি করা, হলফ করে দেয়া নিজেদের সম্পদের বিবরণ। পত্রিকাগুলো শুধু পাঁচ বছর আগের আর পাঁচ বছর পরের দুটো হলফনামায় বর্ণিত সম্পদের পার্থক্যটা দেখিয়ে দিয়েছিল পাঠকদের। তাতেই হৈ হৈ করে উঠলো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নির্বাচন কমিশনে প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে সেই হলফনামাগুলো সরিয়ে ফেলতে বাধ্য করলো ক্ষমতাসীন দলটি। বর্তমানের একজন মন্ত্রী তো একটি পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলাও ঠুকে দিয়েছিলেন। অথচ তথ্যগুলো বানোয়াট ছিল না, নেতা মন্ত্রীদের হলফ করে প্রকাশিত তথ্য ছিল সেগুলো।

আজকে শামীমের টাকা দেখে যাদের চক্ষু ছানাবড়া হয়েছে, তারা কি সেদিনের সেই সম্পদের বিবরণগুলো পড়েছিলেন? দল হিসেবে আওয়ামী লীগের, সরকারের, সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সেই সম্পদের হিসাব নিতে এগিয়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু সরকার সেদিন তথ্য প্রকাশ বন্ধ করে দিয়েছিল। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে সত্যিকারের অবস্থান থাকলে সেদিন সরকার নিজেই আগ্রহী হয়ে সম্পদের এই স্ফীতির ব্যাপারে খোঁজ খবর করতো।

গত তিন বছরের নির্বাচনী হলফনামা পাশাপাশি রেখে সম্পদের বিবরণের একটা তুলনামূলক চিত্র একে দেখেন তো। তখন আর শামীম, খালেদরা আপনাকে একটু বিস্মিত করতে পারবে না। বরং বিস্মিত হবার ক্ষমতাটাই আপনাদের হারিয়ে যাবে। কিন্তু এই কাজটি কখনোই করা যাবে না। দুদক কিংবা সরকার নিজে, কিংবা দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এই কাজটি করবে না।

‘রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন বন্ধের’ কথাটা যদি কেবল শ্লোগান না হয়, তা হলে এটি করতেই হবে।

আরো দেখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button