খেলা

সাকিবদের সামনে প্রথম টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের হাতছানি

প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের হাতছানি সাকিব আল হাসানদের সামনে। ২০০৭ সালে প্রথমবারের মতো কুড়ি ওভারের ক্রিকেটর কোন টুর্নামেন্টে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর আরও ৮টি টুর্নামেন্ট খেলেছে এই ফরম্যাটে। সবমিলিয়ে দুইবার ফাইনাল খেললেও শিরোপা জেতা হয়নি। মঙ্গলবার আরও একবার সুযোগ সাকিব-মুশফিকদের সামনে।

মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে শিরোপা লড়াইয়ে নামবে বাংলাদেশ। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি ও গাজী টেলিভিশন।

আফগানিস্তানের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে থেকেই ফাইনালে খেলতে নামছে স্বাগতিকরা! লিগ পর্বে টানা দুই ম্যাচ হেরে কিছুটা কোণঠাসা আফগানিস্তান। অন্যদিকে চট্টগ্রামে আফগান জুজু কাটানোর পাশাপাশি অপরাজিত ছিল সাকিবরা। ওই জয়ে লিগ পর্বের সেরা দল হয়ে তারা ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।

লিগ পর্বের চার ম্যাচের তিনটিতে বাংলাদেশে জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে ফাইনাল খেলছে। ফলে মানসিকভাবে কিছুটা হলেও তারা এগিয়ে। চট্টগ্রামের জয়ের ধারা ঢাকাতেও অব্যাহত রাখতে পারলে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজের শিরোপা জেতা হবে বাংলাদেশের।

বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসতে পারে রশিদ খানের ইনজুরি। চট্টগ্রামে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েছেন রশিদ। শেষ পর্যন্ত ভয়ঙ্কর রশিদ না খেললে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সুখবর হয়েই আসবে তা! গত কয়েক বছর ধরে রশিদ খানের স্পিন আক্রমণের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা সফল হতে পারছিলেন না। চট্টগ্রামে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়েও মাহমুদউল্লাহ-আফিফের উইকেট তুলে নিয়েছিলেন রশিদ। পুরো সুস্থ অবস্থায় থাকলে হয়তো আফগান জুজু কাটানো সম্ভব হতো না! রশিদ অবশ্য জানিয়েছেন, ১০ ভাগ সুস্থ থাকলেও তিনি দেশের স্বার্থে মাঠে নামবেন। সেই হিসেবে বলাই যায়, রশিদ খানকে নিয়ে হয়তো বোলিং আক্রমণ সাজাবে আফগানরা।

এদিকে লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানকে হারালেও, ফাইনাল নিয়ে সর্তক বাংলাদেশের কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো। বাংলাদেশ এখনো নিজেদের সেরাটা খেলতে পারেনি এবং ফাইনালে দল সেরাটা খেলবে বলে আশাবাদী তিনি, ‘টুর্নামেন্টে এখনো আমরা সেরা ক্রিকেট খেলতে পারিনি। আমরা কিছু জায়গায় ভালো করেছি, কিছু জায়গা কম। তাই সেরাটা দেওয়ার জন্য সবাই চেষ্টা করছে। আশা করি ফাইনাল ম্যাচে আমরা নিজেদের সেরাটা দিয়ে ম্যাচটি জিততে পারবো।’

পরিসংখ্যানে অবশ্য আফগানিস্তানই এগিয়ে। এখন পর্যন্ত ছয়বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-আফগানিস্তান। এরমধ্যে চারবার আফগানরা জিতলেও দুইবার জিতেছে বাংলাদেশ। যার শেষটা চট্টগ্রামে জিতেছে স্বাগতিকরা।

আফগানিস্তান চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে হারের আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও হ্যামিল্টন মাসাকাদজার বিদায়ী ম্যাচে হেরেছে। টানা  দুই হারে নিশ্চিত ভাবেই মনোবল ভেঙেছে আফগানিস্তানের। যদিও আফগান অধিনায়ক এমনটা মনে করছেন না, ‘আমি মনে করি না। আমরা নিজেদের কাজগুলো ঠিকভাবে করতে চাই। পুরনো কোন জয় কিংবা পরাজয় নতুন ম্যাচে কাজে আসে না।’

তবে দুই দলের রণ কৌশলসহ সব আয়োজনে জল ঢেলে দিতে পারে বৃষ্টি। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টির শঙ্কা আছে সারাদিনই। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া রিপোর্ট সত্য হলে দুই দলকেই যৌথভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। কিন্তু দর্শক থেকে ক্রিকেটাররা কেউই চাননা এভাবে ম্যাচটি শেষ হয়ে যাক! আজ সন্ধ্যায় আকাশ ফুড়ে বৃষ্টি না ঝরলেই হয়তো সবার ইচ্ছে পূরণ হবে। এখন অপেক্ষা রোমাঞ্চকর একটি ফাইনালের।

 

আরো দেখুন

সম্পর্কিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button